ফের উত্তপ্ত উপত্যকার মাটি! সেনা-জঙ্গির গুলির লড়াইয়ে খতম দুই জঙ্গি

ফের উত্তপ্ত উপত্যকার মাটি! সেনা-জঙ্গির গুলির লড়াইয়ে খতম দুই জঙ্গি
ফের উত্তপ্ত উপত্যকার মাটি! সেনা-জঙ্গির গুলির লড়াইয়ে খতম দুই জঙ্গি / প্রতীকী ছবি

বংনিউজ ২৪x৭ ডিজিটাল ডেস্কঃ ফের উত্তপ্ত উপত্যকা। সেনা-জঙ্গির গুলির লড়াইয়ে ফের উত্তপ্ত হয়ে উঠল জম্মু-কাশ্মীরের শ্রীনগর। শ্রীনগরের ডানমারের আলমদার কলোনিতে সেনা ও জঙ্গির মধ্যে গুলির লড়াইয়ে খতম হয়েছে ২ লস্কর জঙ্গি। পাশাপাশি এই ঘটনায় আহত হয়েছেন বেশ কয়েকজন জওয়ানও। আহত জওয়ানদের উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তাঁদের চিকিৎসা চলেছে। এই মুহূর্তে ওই এলাকা ঘিরে রেখেছে জওয়ানরা। আরও জঙ্গি লুকিয়ে আছে কিনা, তা খতিয়ে দেখার জন্য জারি রয়েছে তল্লাশি অভিযান।

বৃহস্পতিবার রাতে সেনাবাহিনীর কাছে গোপন সূত্রে খবর আসে যে, শ্রীনগরের ডানমারের আলমদার এলাকায় জঙ্গিরা আত্মগোপন করে রয়েছে। এই খবরের ভিত্তিতে এরপরই ওই এলাকায় তল্লাশি অভিযান শুরু করে পুলিশ এবং সেনা যৌথবাহিনী। জঙ্গিরাও টের পেয়ে যায় এবং বাহিনীর উপস্থিতি বুঝতে পেরেই, আচমকাই গুলি চালাতে শুরু করে। পাল্টা জবাব দেন সেনাবাহিনীর জওয়ানরাও। শুরু হয় দুই পক্ষের মধ্যে তুমুল গুলির লড়াই।

এই ঘটনা প্রসঙ্গে জম্মু-কাশ্মীর পুলিশের আইজি বিজয় কুমার জানিয়েছেন, দীর্ঘক্ষণ ধরে চলা গুলির লড়াইয়ে খতম হয় দুই লস্কর জঙ্গি। মৃত দুই জঙ্গির কাছ থেকে উদ্ধার হয়েছে প্রচুর পরিমাণে বন্দুক, কার্তুজ। এছাড়াও পাওয়া গিয়েছে প্রচুর ভুয়ো সিম কার্ড। এদিকে, বৃহস্পতিবারই বান্দিপোরায় একটি জঙ্গি মডিউলের পর্দাফাঁস হয়। গ্রেপ্তার হয় জঙ্গি সংগঠন লস্কর-ই-তইবার তিন সদস্য।

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, সম্প্রতি জম্মু-কাশ্মীরে একের পর এক সন্ত্রাসবাদী কার্যকলাপ হয়েই চলেছে। জম্মু-কাশ্মীর নিয়ে সেখানকার রাজনৈতিক দলগুলির সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বৈঠকের পর থেকে উপত্যকায় জঙ্গি কার্যকলাপ বেড়েছে। সেখানে সন্ত্রাস ছড়ানোর সবরকম চেষ্টা করছে পাকিস্তান। ভারতীয় সেনার সঙ্গে সরাসরি সংঘাতের রাস্তায় না গিয়ে, ছায়াযুদ্ধ শুরু করেছে পাকিস্তান। জম্মুর বায়ুসেনা ঘাঁটিতে ড্রোন হামলা, পুলিস কর্মীকে খুন, একাধিক সন্দেহভাজন ড্রোনের ঘোরাঘুরি এবং সেনা-জঙ্গি গুলির লড়াই। দেশের করোনা পরিস্থিতির মধ্যেই এভাবেই দেশের পরিস্থিতিকে উত্তপ্ত করে তুলতে চাইছে পাকিস্তানের মদতপুষ্ট জঙ্গি সংগঠনগুলি। এই অবস্থায় ভারতও সন্ত্রাস দমনে সেনা অভিযান বাড়িয়ে দিয়েছে।

এর আগে গত মঙ্গলবার পুলওয়ামায় একটি জঙ্গিঘাঁটি মজুত থাকার খবর দেন গোয়েন্দারা। সেই খবরের উপর ভিত্তি করে, দ্রুত তৈরি করে ফেলা হয় অভিযানের নকশা। রাতের অন্ধকারেই সন্ত্রাসবাদীদের গোপন ঘাঁটি ঘিরে ফেলে কাশ্মীর পুলিশ, সিআরপিএফ ও ৫৫ রাষ্ট্রীয় রাইফলসের একটি যৌথবাহিনী। জওয়ানদের উপস্থিতির কথা জানতে পেরে, গুলি চালাতে শুরু করে জঙ্গিরা। পাল্টা জবাব দেয় বাহিনীও। বেশ কিছুক্ষণ উভয় পক্ষের মধ্যে গুলির লড়াই চলার পর, খতম হয় তিন জঙ্গি। তারপরই নিরাপত্তারক্ষীরা জানতে পারেন যে, নিহত জেহাদিদের মধ্যে রয়েছে পাকমদতপুষ্ট জঙ্গি সংগঠন লস্কর-ই-তইবার কমান্ডার এইজাজ ওরফে আবু হুরাইরা। উপত্যকায় একাধিক জঙ্গি হামলার নেপথ্যে ছিল ওই জঙ্গিনেতার সক্রিয় ভূমিকা। আবার গত জুন মাসেই কাশ্মীরে লস্করের আরও এক কমান্ডার নাদিম আবরার-সহ দুই জঙ্গিকে নিকেশ করে সেনাবাহিনী।