করোনা কালে দোল উৎসব নিয়ে বড় ঘোষণা স্বাস্থ্যমন্ত্রকের! রাজ্য মনে করলে নিতে পারে এই সিদ্ধান্ত

করোনা কালে দোল উৎসব নিয়ে বড় ঘোষণা স্বাস্থ্যমন্ত্রকের! রাজ্য মনে করলে নিতে পারে এই সিদ্ধান্ত
করোনা কালে দোল উৎসব নিয়ে বড় ঘোষণা স্বাস্থ্যমন্ত্রকের! রাজ্য মনে করলে নিতে পারে এই সিদ্ধান্ত / প্রতীকী ছবি

বংনিউজ ২৪x৭ ডিজিটাল ডেস্কঃ দেশজুড়ে ক্রমশ বাড়ছে করোনা সংক্রমণের হার। দেশের মধ্যে কয়েকটি রাজ্যে করোনা পরিস্থিতি যথেষ্ট উদ্বেগজনক। কোনওভাবেই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হচ্ছে না। মহারাষ্ট্র, পঞ্জাব, কেরলে প্রতিদিন সংক্রমণ বৃদ্ধি হচ্ছে। প্রতিদিন নতুন নতুন রেকর্ড সৃষ্টি করছে করোনা সংক্রমণের হার। এইসব রাজ্যে করোনা সংক্রমণের বাড়বাড়ন্ত প্রশাসনের উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে।

এদিকে এই মুহূর্তে দেশব্যাপী চলছে দ্বিতীয় দফার করোনা টিকাকরণ প্রক্রিয়াও। সম্প্রতি কেন্দ্রের নয়া ঘোষণা অনুযায়ী, ৪৫ বছরের বেশি বয়সী প্রত্যেক মানুষই এবার নিতে পারবেন করোনা টিকা। এই আবহে এবার করোনা সংক্রমণের কথা মাথায় রেখে রাজ্যকে নয়া নির্দেশিকা পাঠানো হয়েছে কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রকের পক্ষ থেকে।

সেই নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, রাজ্য সরকার যদি মনে করে যে, দোলের কারণে করোনা সংক্রমণ বাড়তে পারে, তাহলে নিষেধাজ্ঞা জারির সিদ্ধান্ত নিতে পারে রাজ্য। এক্ষেত্রে রাজ্যে করোনা সংক্রমণের গ্রাফ দেখে, তবেই রাজ্য সরকার সিদ্ধান্ত নিতে পারে এ ব্যাপারে।

অন্যদিকে, দিল্লিতেও বাতিল করা হয়েছে হোলি খেলা। দিল্লিতে স্বাস্থ্য দফতরের পক্ষ থেকে নির্দেশ জারি করে বলা হয়েছে যে, প্রকাশ্যে জটলা বেঁধে হোলি খেলা যাবে না। শুধু তাই নয়, দিল্লি সরকার শব-এ-বরাত এবং নবরাত্রি উৎসব পালনের উপরও নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। পাশাপাশি যথেচ্ছভাবে করোনা পরীক্ষার কথাও বলা হয়েছে। বিমানবন্দর, রেল স্টেশন এবং বাস স্ট্যান্ডেগুলোতে যাত্রীদের করোনা পরীক্ষা করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে দিল্লি সরকারের পক্ষ থেকে।

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, করোনা সংক্রমণ বৃদ্ধির কথা বিবেচনা করেই, সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্যে নয়া নিয়ম জারি করছে কেন্দ্রের মোদী সরকার। আগামী মাসের প্রথম দিন অর্থাৎ, ১ এপ্রিল থেকেই এই নতুন নিয়ম লাগু হবে জানা গিয়েছে। মঙ্গলবারই কেন্দ্র সরকারের পক্ষ থেকে এই নতুন গাইডলাইন প্রকাশ করা হয়। এই নতুন নির্দেশিকা চলবে ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত।

কেন্দ্র সরকারের পক্ষ থেকে জারি করা এই নতুন নির্দেশিকায় মূলত টেস্ট ট্র্যাক ট্রিট প্রোটোকলের উপর জোর দেওয়া হয়েছে। এর পাশাপাশি দেশের প্রতিটি রাজ্য এবং কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল যাতে এই নিয়ম মেনে চলে, তার বার্তাও দেওয়া হয়েছে। তাছাড়া সকলে যাতে প্রতিষেধক পান, তার দিকেও নজর দিতে বলা হয়েছে।

উল্লেখ্য, এর আগে করোনা সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ যেভাবে বা যে পথে হাঁটা হয়েছে, সেই পথেই হাঁটছে কেন্দ্র। নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, করোনা পরীক্ষায় কেউ আক্রান্ত ধরে পড়লে, তাঁকে সঙ্গে সঙ্গে আইসোলেশনের ব্যবস্থা করতে হবে এবং সেই সঙ্গে চিকিৎসাও শুরু করতে হবে। আক্রান্তদের সংস্পর্শে আসা ব্যক্তিদের চিহ্নিত করে, তাঁদেরও কোয়ারেন্টাইনের ব্যবস্থা করতে হবে।

অন্যদিকে, করোনাভাইরাস আক্রান্ত এলাকাকে কনটেইনমেন্ট জোন ঘোষণা করতে হবে এবং তা জেলাশাসক অথবা জেলা কালেক্টরের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করতে হবে। এছাড়াও সাধারণ মানুষ যাতে জাতীয় করোনাবিধি মেনে চলেন, তার দিকে নজর দিতে হবে রাজ্য প্রশাসনকে। বিশেষ করে অফিস, স্কুল-কলেজের দিকে বেশি নজর দিতে বলা হয়েছে।

আপনাদের মতামত জানাতে কমেন্ট করুন.