আপ শান্তিপুর লোকালে সদ্যোজাত দেড় মাসের শিশুকন্যা উদ্ধারকে ঘিরে ছড়াল চাঞ্চল্য

আপ শান্তিপুর লোকালে সদ্যোজাত দেড় মাসের শিশুকন্যা উদ্ধারকে ঘিরে ছড়াল চাঞ্চল্য
আপ শান্তিপুর লোকালে সদ্যোজাত দেড় মাসের শিশুকন্যা উদ্ধারকে ঘিরে ছড়াল চাঞ্চল্য / নিজস্ব ছবি

নিজস্ব প্রতিনিধি, নদিয়াঃ ট্রেনের বাঙ্কে বা সিটের তলায় পরিত্যক্ত অবস্থায় ব্যাগ, জলের বোতল, ছাতা বা দামি কোনও কিছু পরিত্যক্ত অবস্থায় পেয়ে থাকেন অনেকেই! কিন্তু কখনও শুনেছেন, সদ্যোজাত ফুটফুটে দেড়মাসের শিশু শুয়ে রয়েছে সিটের দুই সারির মাঝখানে। শোনেননি হয়তো! কিন্তু এমনটাই ঘটেছে। ট্রেনের ভিতরে কিছু পরে থাকা প্লাস্টিকের ব্যাগের সঙ্গেই ছিল এক সদ্যোজাত শিশুকন্যা।

ঘটনাটি শুক্রবার বিকেলের, ৪.৫৭ আপ শিয়ালদা শান্তিপুর লোকালে। শিয়ালদা থেকে ট্রেন ছাড়ার পর, প্রচণ্ড ভিড়ের মাঝে ওই কামরার যাত্রীরা কেউ প্রথমে এই বিষয়টি খেয়াল করেননি। তবে, রানাঘাট এবং কালীনারায়নপুর স্টেশন থেকে ট্রেন ছাড়ার পরে, ভীড় কমে। তখনই ব্যাপারটা নজরে আসে। কিন্তু তখনও সবাই যে যার নিজের সিটে বসে। অপরের বাচ্চা কোলে তুললে আইনি নানান জটিলতা আসতে পারে ভেবেই হয়তো, দেখেও না দেখা করে ছিলেন ট্রেনের যাত্রীরা। ব্যস্ত ছিলেন একে অপরের সঙ্গে কানাঘুষোয়!

কিন্তু ব্যতিক্রমী কিছু মানুষ থাকেন আমাদের চারপাশে। যারা লোকে কি বলল, বা কোনও সমস্যা, সমালোচনার পরোয়া না করে নিজের কর্তব্যের দ্বারা চালিত হন। এখানেও তেমন একজন ছিলেন। নাম সুমিত্রা সরকার। দুই সন্তানের জননী। শান্তিপুর পাবনা কলোনির বাসিন্দা, পেশায় রেডিমেড জামাকাপড় ব্যবসায়ী। সুমিত্রা সরকার প্রতিদিনই সকাল ৭.৩০-এর ট্রেনে কলকাতায় যান, আর কাজ সেরে ফেরেন ৫.৫০ আপ গ্যালপিন শান্তিপুর লোকালে, তবে আজ একটি ট্রেন আগেই ফিরছিলেন বাড়িতে। তিনি এগিয়ে এসে উদ্ধার করেন ওই শিশুকন্যাকে। পরম স্নেহে কোলে তুলে নেন সদ্যোজাতকে।

দুই-একজন প্রত্যক্ষদর্শীর মতে, সুমিত্রা সরকার নামের ওই মহিলা মানুষের কোলাহলের মধ্যে থেকে কোলে তুলে নেন শিশুটিকে। এরপর সোজা শান্তিপুর আরপিএফ এর কাছে পৌঁছে যান। আরপিএফ ফোন করে চাইল্ডলাইনকে, তার মধ্যেই শিশুটির শারীরিক অবস্থা কেমন আছে তা জানার জন্য শান্তিপুরের জেনারেল হাসপাতালে দেখিয়ে নিয়ে আসে রেল কর্তৃপক্ষ। সম্পূর্ণ সুস্থ থাকার কারণে, পরে চাইল্ডলাইনের হাতে তুলে দেওয়া হয় ওই শিশুকন্যাকে।

আইন, নিয়ম কোনও কিছুর পরোয়া না করে, শুধুমাত্র মানবিকতার কারণে মাতৃস্নেহে, কোলে তুলে নেওয়া শিশুটির নতুন জীবন দানকারী সুমিত্রা সরকার জানিয়েছেন, তিনি এক কন্যা এবং এক পুত্রের জননী, বেশি কিছু না ভেবে, প্রথমেই মনে হয়েছিল একজন মা হিসেবে ওই শিশুকন্যার প্রাণরক্ষা করা বেশি জরুরি।

রেল কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা গিয়েছে, ওই শিশুকন্যার পাশে থাকা পরিত্যক্ত দু‘একটি প্লাস্টিকের ব্যাগ এর মধ্য থেকে একটি ফোন নাম্বার পাওয়া যায়, তবে ওই ফোন বেশ কিছুক্ষণ সময়ের জন্য নট রিচেবল ছিল। এখনও পর্যন্ত বাচ্চাটির কোনো পরিবারের ঠিকানা বা খোঁজখবর পাওয়া যায়নি। তবে, চাইল্ডলাইন রানাঘাটে শিশুদের রাখার সরকারি হোমে আপাতত ব্যবস্থা হয়েছে বলেই জানা গিয়েছে চাইল্ডলাইন সূত্রে। অন্যদিকে ঘটনাটি জানাজানি হতে, এরই মধ্যে স্থানীয় বেশকিছু নিঃসন্তান দম্পতি বাচ্চাটিকে আজীবন প্রতিপালনের দায়িত্ব নিতে আবেদন করেছেন বলে জানিয়েছেন রেল কর্তৃপক্ষ। তবে, সেক্ষেত্রে বেশ কিছু আইনি নিয়মের কথা তাঁদের বলেছে রেল কর্তৃপক্ষ।

আপনাদের মতামত জানাতে কমেন্ট করুন.