ভোটের প্রচারে মানতে হবে এই একগুচ্ছ কোভিড বিধি! কড়া নির্দেশ হাইকোর্টের

ভোটের প্রচারে মানতে হবে এই একগুচ্ছ কোভিড বিধি! কড়া নির্দেশ হাইকোর্টের
ভোটের প্রচারে মানতে হবে এই একগুচ্ছ কোভিড বিধি! কড়া নির্দেশ হাইকোর্টের

করোনার দ্বিতীয় ঢেউ আসার পর দেশে হুহু করে বাড়ছে সংক্রমণের দাপট! পিছিয়ে নেই পশ্চিমবঙ্গও। গত ২৪ ঘণ্টায় রাজ্যে নতুন করে করোনা আক্রান্ত হয়েছেন ৪ হাজার ৮১৭ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় রাজ্যে করোনা আক্রান্ত হয়ে মারা গিয়েছেন ২০ জন। মধ্যেই রাজ্যে চলছে বিধানসভা ভোট। করোনাবিধি ভুলে এখন সবাই ব্যস্ত প্রচারে। অথচ প্রায় কারোর মুখেই থাকছে না মাস্ক। শারীরিক দূরত্বও মানছেন না কেউই।

এই পরিস্থিতিতে করোনার সংক্রমণ ঠেকাতে কড়া নির্দেশিকা জারি করল হাইকোর্ট। ভোটের প্রচারে এবার থেকে মানতেই হবে কোভিড বিধি। রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক ও জেলাশাসকদের এই একগুচ্ছ নির্দেশ দিল কলকাতা হাইকোর্ট। প্রধান বিচারপতি টিবিএন রাধাকৃষ্ণণ এবং বিচারপতি অরিজিৎ ব্যানার্জির ডিভিশন বেঞ্চ এদিন নির্দেশ দিয়েছেন, রাজনৈতিক হোক বা অরাজনৈতিক, যে কোনও জমায়েতে প্রত্যেকের মাস্ক পরা বাধ্যতামূলক। স্যানিটাইজারও ব্যবহার করতে হবে। মিছিল, মিটিং এবং বাড়ি বাড়ি গিয়ে জনসংযোগ, সবেতেই যথাসম্ভব সামাজিক এবং শারীরিক দূরত্ব মানতে হবে। বড়সড় রাজনৈতিক জমায়েত করতেও নিষেধ করা হয়েছে। পর্যাপ্ত কোভিড বিধি মেনেই রাজনৈতিক দলের নেতা–নেত্রীদেরও প্রচার করতে হবে। পাশাপাশি জনসাধারণকে করোনা নিয়ে সতর্কও করতে হবে।

এইসব করোনা বিধি ঠিক মতো মানা হচ্ছে কিনা তা নজর রাখার দায়িত্ব বর্তেছে নির্বাচন কমিশনের অধীনে থাকা জেলাশাসকদের ওপর। বিধি মেনেই রাজনৈতিক দলগুলি প্রচার চলছে কিনা সে বিষয়ে পুলিশ প্রশাসনকেও নজর রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ভিড় যদি সামলানো না যায় সেক্ষেত্রে ১৪৪ ধারা ব্যবহার করার কথাও জানানো হয়েছে। প্রসঙ্গত, করোনা আবহের মধ্যেও বিভিন্ন রাজনৈতিক সভা-সমাবেশে করোনাবিধি না মানায় হাইকোর্টে জনস্বার্থ মামলা দায়ের হয়েছিল। নীতিশ দেবনাথ নামে এক ব্যক্তি মামলাটি দায়ের করেছিলেন। তারই প্রেক্ষিতে এদিন নির্দেশিকা জারি হাইকোর্টের।

অন্যদিকে, রাজ্যে পাল্লা দিয়ে রোজ লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে আক্রান্তর সংখ্যা। গত ২৪ ঘণ্টায় কলকাতায় করোনা আক্রান্তের সংখ্যা ১ হাজার ২৭১ জন। তারপরই রয়েছে উত্তর চব্বিশ পরগনা। সেখানে আক্রান্ত ১ হাজার ১৩৪ জন। এর মধ্যেই কিছুটা স্বস্তি! গত দুদিনের তুলনায় ২৪ ঘণ্টায় বেশি মানুষের সুস্থতার খবর পাওয়া গিয়েছে। তবে সুস্থতার হার তুলনামূলক কমেছে। যদিও করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ে রাজ্যের পরিস্থিতি যে খুবই খারাপের দিকে এগোচ্ছে, এমনটাও জানিয়েছেন চিকিৎসকরা।