‘লড়ে গেছো আপন গৌরবে। তাইতো আজ জয়ী হলে তোমরা’! কবিতায় অন্নদাতাদের কুর্নিশ মমতার

‘লড়ে গেছো আপন গৌরবে। তাইতো আজ জয়ী হলে তোমরা’! কবিতায় অন্নদাতাদের কুর্নিশ মমতার
‘লড়ে গেছো আপন গৌরবে। তাইতো আজ জয়ী হলে তোমরা’! কবিতায় অন্নদাতাদের কুর্নিশ মমতার

বংনিউজ ২৪x৭ ডিজিটাল ডেস্কঃ আজ গুরু নানকের জন্মদিন। আর আজকের দিনেই বড় ঘোষণা করেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। কেন্দ্রের বিতর্কিত তিন কৃষি আইন প্রত্যাহার করল কেন্দ্র। কাজেই স্বাভাবিকভাবেই এতদিন ধরে কৃষকদের আন্দোলন সফল হল বলা যায়।

গুরু নানকের জন্মদিন গুরুপরবে এই ঘোষণা করেন মোদী। মোদী তাঁর ভাষণে বলেন, ‘হয়তো আমাদের তপস্যায় কিছুর অভাব ছিল, যে কারণে আমরা কৃষকদেরকে এই আইন সম্পর্কে বোঝাতে পারিনি। তবে আজ প্রকাশ পর্ব, কাউকে দোষারোপ করার সময় নয়। আজ আমি দেশকে বলতে চাই যে আমরা তিনটি কৃষি আইন বাতিল করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি’।

দীর্ঘ দিনের আন্দোলনের ফল পেয়েছেন আজ কৃষকরা। হাজারও হুঙ্কার, অস্ত্রের শাসানির মুখে দাঁড়িয়েও নিজেদের অবস্থান থেকে সরে আসেননি তাঁরা। তাই তো অবশেষে এসেছে সাফল্য। কেন্দ্রের বিতর্কিত কৃষি আইন প্রত্যাহারের পর এভাবেই অভিনন্দন জানিয়ে কলম ধরেছেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।  নিজের ভাব মিশিয়ে লিখেছে, ‘অন্নদাতাদের অন্নর অধিকার ফিরিয়ে দিতে হবেই। …..লড়ে গেছো আপন গৌরবে। তাইতো আজ জয়ী হলে তোমরা।’

কৃষকদের হাজারও কঠিন পরিস্থিতি এবং সমস্যার মধ্যে থেকে লড়াইকে কুর্নিশ জানিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁরা জেভাবে হার না মেনে ক্রমাগত লড়াই করে গেছেন, তা নিজের কবিতার মাধ্যমে ফুটিয়ে তুলেছেন মুখ্যমন্ত্রী। সেই কবিতার পংক্তিতে তিনি লিখেছেন, ‘মাঠ-মাটিতে-জমি প্রান্তরে কৃষিক্ষেত্র জাগবেই। দীর্ঘদিনের আন্দোলনের ফসল, তোমাদের জীবনের স্বপ্ন কেড়ে নিতে চাইলেও ব্যর্থ হবে না। ঔদ্ধত্য-অহংকার ভগ্ন, রৌদ্র-বৃষ্টি-ঝড়ঝঞ্ঝায়, কত রাত গিয়েছে পেরিয়ে। অস্ত্র ঝংকার কেড়ে নিল প্রাণ, মৃতদেহ লাশকাঁটায় জড়িয়ে। তুবতো থামেনি, থামোনি তোমরা। লড়ে গিয়োছো আপন গৌরবে, তাই তো আজ জয়ী হলে তোমরা। অভিনন্দন সংগ্রামী সৌরভে।’

আজ কৃষি আইন প্রত্যাহারের কথা ঘোষণার পরই টুইটে কৃষকদের শুভেচ্ছা জানান মুখ্যমন্ত্রী। ‘এতদিন  যাঁরা বিজেপির নিষ্ঠুরতার সামনে মাথা নোয়াননি, এই জয় তাঁদের। প্রত্যেক লড়াকু কৃষককে আমার হার্দিক অভিনন্দন।’ অভিনন্দন জানানোর পাশাপাশি এদিন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়  সমবেদনা জানিয়েছেন, যারা এই সংগ্রামে প্রাণ হারিয়েছেন, সেইসব কৃষকদের পরিবারের প্রতি। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, দিল্লি-পঞ্জাব সীমানায় দীর্ঘদিন ধরে কৃষকদের এই অবস্থান বিক্ষোভে দফয়া দফয়া উত্তাল হয়ে উঠেছিল দেশ। যার নেতৃত্বে ছিলেন রাকেশ টিকাইত, হান্নান মোল্লার মতো কৃষক নেতারা।

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, বরাবরই কৃষক আন্দোলনে নিজেকে শামিল করেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বাংলার রাজনৈতিক পালাবদল যেমন ঘটেছিল এই কৃষক আন্দোলনকে কেন্দ্র করেই, তেমনই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের রাজনৈতিক লড়াইয়ের অন্যতম হাতিয়ার ছিল সিঙ্গুরের কৃষি আন্দোলন। সেই কৃষক আন্দোলনের স্মৃতিকে হাতিয়ার করেই তৃণমূল নেত্রী নিজের সমর্থন পৌঁছে দিয়েছিলেন দিল্লি, পাঞ্জাব, হরিয়ানার প্রতিবাদী কৃষকদের কাছে। আবার তাঁর প্রতিনিধি হিসেবে দিল্লির সিংঘু সীমানায় অবস্থানরত কৃষকদের কাছে গিয়ে, হাতে হাত রেখে সমর্থনের বার্তা দিয়ে এসেছিলেন দলের সাংসদ ডেরেক ও ব্রায়েন, প্রসূন বন্দ্যোপাধ্য়ায়রা। মমতা নিজে কৃষক নেতাদের সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ করে আশ্বাস দেন। এমনকী এই আন্দোলনের মূল উদ্যোক্তা সংযুক্ত কিষাণ মোর্চার নেতা রাকেশ টিকায়েত একুশের বিধানসভা নির্বাচনের আগে কলকাতায় এসে তৃণমূল সুপ্রিমোর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন।

এদিন প্রধানমন্ত্রী পরিষ্কারভাবে জানিয়ে দিয়েছেন যে, ‘কৃষকদের আর্থিক পরিস্থিতির উন্নতিতে আমরা পূর্ণ সততার সঙ্গে কাজ করছি। ছোট কৃষকদের উন্নতির জন্য তিনটি কৃষি আইন আনা হয়েছিল। দেশের বহু কৃষক, কৃষি বিশেষজ্ঞ, কৃষি অর্থনীতিবিদ সবাই চাইছিলেন এই ধরনের আইন আনা হোক। এর আগেও একাধিক সরকার এই ধরনের বিল আনার চেষ্টা করেছিলেন। এবারেও সংসদে আলোচনা করে এই আইন আনা হয়েছে। দেশের বিভিন্ন প্রান্তের কোটি কোটি কৃষক এই আইনকে স্বাগত জানিয়েছিলেন।’

বস্তুত প্রধানমন্ত্রী এদিন পরোক্ষভাবে বুঝিয়ে দিতে চাইলেন, তিনি দেশের কৃষকদের ভালর জন্যই এই তিন আইন এনেছিলেন। কিন্তু কিছু সংখ্যক কিছু কৃষকের জন্য তাঁর সেই মহান উদ্দেশ্য বাস্তবে পূরণ হল না।