রাজ্যজুড়ে শীত শীত ভাব, এরই মধ্যে ফের নিম্নচাপের ভ্রূকুটি! বৃষ্টির সম্ভবনা এই জেলাগুলিতে

রাজ্যজুড়ে শীত শীত ভাব, এরই মধ্যে ফের নিম্নচাপের ভ্রূকুটি! বৃষ্টির সম্ভবনা এই জেলাগুলিতে
রাজ্যজুড়ে শীত শীত ভাব, এরই মধ্যে ফের নিম্নচাপের ভ্রূকুটি! বৃষ্টির সম্ভবনা এই জেলাগুলিতে / প্রতীকী ছবি

বংনিউজ ২৪x৭ ডিজিটাল ডেস্কঃ ক্রমশ একটু একটু করে নামছে তাপমাত্রার পারদ। আকাশ পরিষ্কার হতেই রাতের তাপমাত্রা আরও কমতে শুরু করেছে। ক্রমশ বাড়ছে ঠাণ্ডার আমেজ। এর সঙ্গে শিরশিরে ঠাণ্ডা উত্তুরে হাওয়া বলছে, শীত বুড়োর আসার আর বেশি দেরি নেই। তবে, হাড় কাঁপানো ঠাণ্ডার জন্য এখনও আরও একটু অপেক্ষা করতে হবে রাজ্যবাসীকে। এমনটাই জানিয়েছে আবহাওয়া দফতর। উল্লেখ্য, কালীপুজোর আগে থেকেই ভোরের দিকে কুয়াশা পড়তে শুরু করেছে। সেই সঙ্গে কমছে তাপমাত্রাও। রাজ্যজুড়ে শীত শীত ভাব থাকলেও, সোমবার সামান্য বেড়েছে তাপমাত্রা। তাপমাত্রা ১৮.৭ থেকে বেড়ে ১৮.৯ ডিগ্রি হয়েছে। তবে, এই তাপমাত্রাও স্বাভাবিকের তুলনায় ২ ডিগ্রি কম।

জানা গিয়েছে, ১০ নভেম্বর পর্যন্ত উত্তর-পশ্চিম ভারতের শীতল হাওয়া অবাধেই এই রাজ্যে প্রবেশ করবে। এর ফলে বুধবার পর্যন্ত সর্বনিম্ন তাপমাত্রা স্বাভাবিকের তুলনায় কমই থাকবে। কিন্তু বুধবারের পর থেকে রাজ্যজুড়ে চলতে থাকা এই শীত শীত ভাব কিছুটা বাধাপ্রাপ্ত হবে। মঙ্গলবার শহরের সর্বচ্চ তাপমাত্রা থাকবে ৩০.৬ ডিগ্রি এবং সর্বনিম্ন তাপমাত্রা থাকবে ১৮.৯ ডিগ্রি যা স্বাভাবিকের তুলনায় ২ ডিগ্রি কম।

এদিকে শীতের আসার পথে ফের বাধা নিম্নচাপের। হাওয়া অফিস জানাচ্ছে, আন্দামান সাগর এবং দক্ষিণ পূর্ব বঙ্গোপসাগরের উপর তৈরি হওয়া একটি নিম্নচাপের ফলে কমবে ঠাণ্ডার আমেজ। বৃহস্পতিবার অর্থাৎ ১১ নভেম্বরে এটি সুস্পষ্ট নিম্নচাপের আকার নেবে। এই নিম্নচাপের জেরে তামিলনাড়ুর উপকূলে বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে। তবে, পশ্চিমবঙ্গের উপকূলবর্তী জেলা অর্থাৎ দক্ষিণ ২৪ পরগনা এবং পূর্ব মেদিনীপুরে ১৩ এবং ১৪ নভেম্বর হালকা বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। বাকি জেলাগুলিতে বৃষ্টি না হলেও বাতাসে ক্রমশ বাড়তে থাকা জলীয় বাষ্প এবং আদ্রতার কারণে অস্বস্তি বাড়বে।

আলিপুর আবহাওয়া দফতর সূত্রে খবর, আগামী ১৫ ডিসেম্বরের পরে একেবারে জাঁকিয়ে শীত পড়বে বাংলায়। রাজ্য থেকে বর্ষা বিদায়ের পর থেকে আবহাওয়া শুষ্ক থাকছে। উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে ইতিমধ্যেই ঠান্ডা হাওয়া প্রবেশ করতে শুরু করেছে বাংলায়। গত কয়েকদিন ধরেই রাত ও ভোরের তাপমাত্রা কমতে শুরু করেছে। কালীপুজোর রাতেও বাংলাজুড়ে এমনি ঠাণ্ডার আমেজ ছিল। ভাইফোঁটাও কেটেছে ঠাণ্ডার আমেজে। আবহাওয়াবিদরা জানাচ্ছেন, এ বছরে যেমন বর্ষা দীর্ঘদিন ধরে ছিল, তেমনই এবছর শীতও জাঁকিয়ে পড়ার সম্ভবনা রয়েছে। গত বছরের তুলনায় এবছর একটু বেশিই শীত পড়তে পারে বলে জানিয়েছেন আবহাওয়াবিদরা। কলকাতা-সহ দক্ষিণের জেলাগুলিতে উত্তুরে হাওয়া বইতে শুরু করেছে। ফলে দিনের বেলাতে রোদ থাকলেও, রাতে ক্রমশ কমছে তাপমাত্রা।

আবহাওয়া দফরের পূর্বাঞ্চলীয় অধিকর্তা সঞ্জীব বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছেন, উত্তুরে হাওয়ার সঙ্গে উত্তর-পশ্চিমের ঠান্ডা হাওয়াও ঢুকছে এ রাজ্যে। আর তারই ফলে স্বাভাবিকের থেকে নীচে নেমে যাচ্ছে রাতের তাপমাত্রা। ভোর বেলা শীতের টান লাগছে শহরে, গ্রামে আরও বেশি। এমনকী, উত্তুরে হাওয়ার সঙ্গে উত্তর-পশ্চিমের হাওয়া মিলে যাওয়া, উত্তরবঙ্গের জেলাগুলির চেয়ে বেশি শীত অনুভূত হচ্ছে পশ্চিমের জেলাগুলিতে।