‘দড়ি ছিঁড়ে বেরিয়ে গেছিল, আবার খুঁটিতে বাঁধা হল’, মুকুলের তৃণমূলে ফেরা নিয়ে বিস্ফোরক অনুব্রত!

'দড়ি ছিঁড়ে বেরিয়ে গেছিল, আবার খুঁটিতে বাঁধা হল', মুকুলের তৃণমূলে ফেরা নিয়ে বিস্ফোরক অনুব্রত!
'দড়ি ছিঁড়ে বেরিয়ে গেছিল, আবার খুঁটিতে বাঁধা হল', মুকুলের তৃণমূলে ফেরা নিয়ে বিস্ফোরক অনুব্রত!

অবশেষে জল্পনার অবসান। তৃণমূলেই প্রত্যাবর্তন করলেন বিজেপির সর্বভারতীয় নেতা মুকুল রায়। ছেলে শুভ্রাংশু রায়কে সঙ্গে নিয়েই শুক্রবার তৃণমূল ভবনে দলে ফের যোগদান করলেন তিনি। এরপরই তাঁর দলে প্রত্যাবর্তন প্রসঙ্গে বিস্ফোরক হয়ে উঠলেন বীরভূম জেলা তৃণমূল সভাপতি অনুব্রত মণ্ডল। তিনি বললেন, “গরু দড়ি ছিঁড়ে বেরিয়ে গেছিল, ফের খুঁটিতে বাঁধা হল।”

গত কয়েকদিন ধরেই রাজনৈতিক মহলে চলছিল জোর জল্পনা। মুকুল রায় কি ফের তৃণমূলে ফিরতে চলেছেন? অবশেষে সেই জল্পনাই সত্যি হল। এদিন মুকুলের তৃণমূলে যোগদান অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী তথা দলের প্রধান নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “ঘরের ছেলে ঘরে ফিরল। ওল্ড ইজ গোল্ড।” অন্যদিকে, মুকুলকে স্বাগত জানালেন পার্থ চট্টোপাধ্যায়ও৷ তবে এসবের মধ্যেই কটাক্ষের সুর লক্ষ্য করা গেল অনুব্রতর গলায়।

এদিন মুকুল রায়ের তৃণমূলে ফেরার পাশাপাশি দলবদলু আরও নেতাদের দলে ফেরার ইচ্ছেপ্রকাশ নিয়ে প্রশ্ন করা হলে উত্তরে অনুব্রত জানান, “গোয়ালে অনেক গরু থাকে। রাত্রিবেলায় তারা দড়ি ছিঁড়ে বেরিয়ে যায়। সকাল বেলায় আবার এনে তাদের বেঁধে দেওয়া হয়। এরাও দড়ি ছিঁড়ে বেরিয়ে গিয়েছিল, আবার খুঁটিতে বাঁধা হচ্ছে।” পাশাপাশি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে দলের ‘চাণক্য’ বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

অনুব্রত বলেন, “আগে সংবাদমাধ্যমে শুনতাম মুকুল রায় নাকি তৃণমূলের চাণক্য ৷ ২০২১ তো মুকুল রায় ছিলেন না। প্রমাণ হল তো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ই আসল চাণক্য ৷ মমতা ব্যানার্জি যা বলবেন তাই হবে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যা চাইবেন তাই হবে।” পাশাপাশি মুকুলকে নিয়ে অনুব্রত আরও বলেন, “মমতা ব্যানার্জি যা সিদ্ধান্ত নেবেন সেটাই দলের সিদ্ধান্ত। তিনি যদি মনে করেন মুকুল রায়কে দরকার আছে তাহলে নেবেন। সেটা মমতা ব্যানার্জিরই সিদ্ধান্ত। এটা মনে রাখতে হবে, মমতা ব্যানার্জির থেকে বড় চাণক্য কেউ নাই।”

পাশাপাশি এদিন ভোটের আগে নিজের করা ভবিষ্যদ্বাণীকেও পুনরায় করিয়ে দিয়ে দেন অনুব্রত। এবারের রাজ্য বিধানসভা নির্বাচনে দুশোর বেশি আসন পেয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। এই প্রসঙ্গে অনুব্রতর দাবী, “আমি যেটা বলেছিলাম ২২০ থেকে ২৩০। এখনও ছ’টাতে ভোট বাকি আছে। ছ’টাতেই জয়লাভ করবো। মমতা ব্যানার্জি যা বলে তাই হয়। মমতা ব্যানার্জি যা বলবে তাই করবে। মমতা ব্যানার্জীই উন্নয়নের কান্ডারী।”