রাজ্য মন্ত্রিত্ব নাকি রাজ্যসভার সাংসদ? বাবুল সুপ্রিয় তৃণমূলে কোন পজিশনে খেলার সুযোগ পাবেন?

রাজ্য মন্ত্রিত্ব নাকি রাজ্যসভার সাংসদ? বাবুল সুপ্রিয় তৃণমূলে কোন পজিশনে খেলার সুযোগ পাবেন?
রাজ্য মন্ত্রিত্ব নাকি রাজ্যসভার সাংসদ? বাবুল সুপ্রিয় তৃণমূলে কোন পজিশনে খেলার সুযোগ পাবেন?

বংনিউজ ২৪x৭ ডিজিটাল ডেস্কঃ কোনও আগাম ইঙ্গিত ছাড়াই দল ছেড়েছেন তথা প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী বাবুল সুপ্রিয়। গতকালই তিনি তৃণমূলে যোগ দিয়েছেন।

উল্লেখ্য, দীর্ঘ প্রায় ৭ বছর বিজেপিতে থাকলেও সংগঠনের সঙ্গে গাঁটছড়া কখনই তেমন মজবুত হয়নি বাবুলের। মন্ত্রিত্ব হারানোর পর যে বিষয়টি আরও বিপক্ষে যায় আসানসোলের সাংসদের। এমনও শোনা যায় যে, বঙ্গ বিজেপি শীর্ষ নেতৃত্ব তাঁর ভূমিকায় খুব একটা সন্তুষ্ট ছিলেন না। যে কারণে মন্ত্রিত্ব হারা বাবুলকে সংগঠনের কোনও কাজেও দেখা যায়নি। ফলে দলে ক্রমশই কোণঠাসা হয়ে পড়ছিলেন এই গায়ক-সাংসদ।

মন্ত্রিত্ব হারানোর পর তিনি নিজে এতটাই ভেঙে পড়েছিলেন যে, তার বহিঃপ্রকাশ সোশ্যাল মিডিয়াতে অনেকবারই দেখা যায়। সোশ্যাল মিডিয়ায় তৃণমূল এবং মুকুল রায়ের টুইটার অ্যাকাউন্ট অনুসরণ করা নিয়েও কম জলঘোলা হয়নি। তখনও তাঁর তৃণমূলের যোগ দেওয়ার প্রসঙ্গ ওঠে। তবে, বাবুল এটাও দাবি করেছিলেন যে, তিনি কখনই বিজেপি ছাড়া অন্য কোনও দলকে সমর্থন করবেন না। কিন্তু সেসব এখন অতীত। আপাতত পদ্ম শিবির ছেড়ে ঘাসফুল শিবিরে নতুন করে নিজের ভবিষ্যৎ গড়তে চাইছেন তিনি।

ঘাসফুল শিবির তাঁকে অনেক বড় সুযোগ দিয়েছে। তা তিনি হারাতে চাইছেন না, এটা গতকালই স্পষ্ট করেছেন। তবে, তৃণমূল তাঁকে কী দায়িত্ব দিতে চলেছে, সে ব্যাপারে শনিবার মুখ খোলেননি বাবুল সুপ্রিয়। উল্টে কৌতূহল জিইয়ে রেখেছেন। যদিও এটা পরিষ্কার যে, তৃণমূলে তিনি অনেক বেশি গুরুত্ব পেতে চলেছেন প্রাক্তন কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী। তাঁকে কি রাজ্যসভায় পাঠানো হবে? না রাজ্যের মন্ত্রিত্ব নাকি নিজের লোকসভা কেন্দ্রেই উপনির্বাচনে প্রার্থী হবেন? এখন তাঁকে ঘিরে এমনই নানা প্রশ্ন উঠছে রাজনীতির অন্দরে।

বাবুল সুপ্রিয়

এর মধ্যে প্রথম যে সম্ভবনা উঠে আসছে, তা হল,রাজ্যসভার আসন। লোকসভা থেকে ইস্তফা দেওয়ার কথা এ দিনই ঘোষণা করেছেন তিনি। সদ্য অর্পিতা ঘোষ তৃণমূলের রাজ্যসভার সাংসদ পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছেন।  দলের নির্দেশই এই পদত্যাগ অর্পিতার, তা তিনি জানিয়েছিলেন। সেই সময়ই দলের সূত্রে খবর ছিল যে, অর্পিতার জায়গায় কোনও ‘বড় নেতা’কে আনবে তৃণমূল। সেই ‘বড় নেতা’ কি তবে বাবুল সুপ্রিয়? এই বিষয়ে তাঁকে সাংবাদিক বৈঠকে প্রশ্ন করা হলে, তিনি বলেন, ‘এটা দল ঠিক করবে’।

আরও একটি জল্পনা উঠছে বাবুলের মন্ত্রিত্ব নিয়ে। রাজ্যের মন্ত্রিসভায় কি ঠাঁই পেতে চলেছেন আসানসোলের সাংসদ? আরও ৪টি কেন্দ্রে উপনির্বাচন বকেয়া। যে কোনও একটি আসনে বাবুলকে প্রার্থী করে জিতিয়ে আনতে পারে তৃণমূল কংগ্রেস।

আবার পুজোর পরই উপনির্বাচন হতে পারে বলে মনে করছেন অনেকে। কেন্দ্রীয় মন্ত্রিত্ব যাওয়ার পর যে বাবুলের সঙ্গে দলের দূরত্ব বেড়েছে তা স্পষ্ট। আর তৃণমূল তাঁকে ‘মানুষের সেবা’ করার সুযোগ দেবে, সেটা তো বাবুল নিজেই বলেছেন। তিনি জানান,’আমি সোমবার দিদির সঙ্গে দেখা করছি। আমার সঙ্গে ইতিমধ্যেই কথা হয়েছে। যে উষ্ণ অভ্যর্থনা ওঁরা আমায় দিয়েছেন, তাতে আমি খুশি। এটা প্রত্যাশা করিনি। মন থেকে রাজনীতি ছেড়েছিলাম। বাংলার জন্যে কাজের সুযোগ দিয়েছেন দিদি এবং অভিষেক। সুযোগ যখন আসে তখন সিদ্ধান্ত নিতে হয়। আমি তা গ্রহণ করেছি।’ এক্ষেত্রে তাঁর কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী হিসেবে ৭ বছর কাজ করার প্রশাসনিক অভিজ্ঞতা রয়েছে বাবুলের। তাই এই ‘বিরাট সুযোগ’ কি রাজ্যের মন্ত্রী হওয়ার? সেই প্রশ্নও উঠছে। তাই প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী তৃণমূলে কোন পজিশনে খেলার সুযোগ পান? সেটাই এখন দেখার অপেক্ষা।