অভিযোগ নিতে আস্বীকার পুলিশের, থানার সামনে নিজের গায়ে আগুন দিলেন তরুণী

283
Image courtesy: Google

বিশেষ প্রতিবেদনঃ দিনের পর দিন স্বামীর দ্বারা নির্যাতিত হওয়ায় অবশেষে পুলিশের দ্বারস্থ হন তরুণী। কিন্তু থানায় গিয়েও কোন সাহায্য না পাওয়ায় অবশেষে মানসিক ভাবে বিধ্বস্ত ওই তরুণী নিজের গায়ে আগুন লাগিয়ে আত্মহত্যার সিদ্ধান্ত নেন। ঘটনাটি ঘটেছে ঢাকার রাজশাহীর শাহমখদুম থানায়। বর্তমানে ঢাকা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ওই গৃহবধূ।

ওই গৃহবধূ তরুনীর নাম লিজা। গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার প্রধানপাড়া এলাকার বাসিন্দা তিনি। রাজশাহী মহিলা কলেজে বানিজ্য বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রী তিনি। লিজা নামের ওই তরুনীর এক বন্ধবীর কথায়, “২০ জানিয়ারি লিজার সঙ্গে চাঁপাইনবাবগঞ্জের খানদুবার বাসিন্দা সাখাওয়াৎ হোসেনের বিয়ে হয়। কিন্তুবিয়ের কিছুদিনের মধ্যেই স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে শুরু হয় অশান্তি। তাছাড়া বিয়েতে বারির লোকের সম্মতি না পাওয়ায় নিজের বাড়িতে নববধূ লিজাকে নিয়ে যেতে আস্বীকার করে সাখাওয়াৎ। এর কিছুদিন পরেই স্ত্রীর সাথে যোগাযোগ বন্ধ করে দেন তিনি।

শেষ পর্যন্ত কোন উপায় না পেয়ে স্বামীর খোঁজে নাচোলে ছুটে যান ওই তরুণী। স্ত্রীকে দেখেই বাড়ি থেকে চম্পট দেন সাখাওয়াৎ। এরপরেই স্বামীর বিরুদ্ধে নাচোল থানায় অভিযোগ দায়ের করেন ওই তরুণী। পুলিশ সাখাওয়াৎ ও তাঁর বাবাকে থানায় ডেকে পাঠান। কিন্তু ফের জারশাহীতে গিয়ে স্ত্রীর সাথে যোগাযোগ বন্ধ করে দেন সাখাওয়াৎ। এর পর সাখাওয়াতের পরিবার ওই তরুনীকে হুমকি দেয়, পুলিশের দ্বারস্থ হলে তাঁকে খুন করে ফেলা হবে। কিন্তু বাধ্য হয়ে শনিবার দুপুরে ফের শাহমখদুম থানায় যান ওই তরুণী। কিন্তু থানার তরফে কোন সাহায্য না পাওয়ায় পাশের একটি দোকান থেকে কেরোসিন তেল কিনে নিজের গায়ে ঢেলে থানার সামনে আগুন লাগিয়ে নেন ওই তরুণী। ওই তরুনীর দাবি, তাঁর অভিযোগ নিতে আস্বীকার করে পুলিশ।

আশঙ্কাজন অবস্থায় ওই তরুনীকে প্রথমে রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হলেও অবস্থার ক্রম অবনতির ফলে তাঁকে ঢাক্র হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়। আগুনে ওই তরুনীর শ্বাসনালী ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে বলে জানান চিকিৎসকেরা।

আরও পড়ুনঃ  লিঙ্গ বৈষম্যকে তুড়ি মেরে এবার বাংলাদেশের জনপ্রতিনিধি তালিকায় নাম লেখালেন এই বৃহন্নলা

আপনাদের মতামত জানাতে কমেন্ট করুন.