ব্যস্ত বাজারে গুনে গুনে ২৫ কোপ! স্বামীর হাতে ছিন্নভিন্ন স্ত্রীর শরীর! ভাইরাল ভিডিও

ব্যস্ত বাজারে গুনে গুনে ২৫ কোপ! স্বামীর হাতে ছিন্নভিন্ন স্ত্রীর শরীর! ভাইরাল ভিডিও
ব্যস্ত বাজারে গুনে গুনে ২৫ কোপ! স্বামীর হাতে ছিন্নভিন্ন স্ত্রীর শরীর! ভাইরাল ভিডিও / প্রতীকী ছবি

বংনিউজ২৪x৭ ডিজিটাল ডেস্কঃ এক কথায় নৃশংস, পাশাপাশি ভয়াবহও বটে। যা দেখলে শিউরে উঠতে হয়। এমনই এক ভয়ঙ্কর ঘটনা ঘটেছে প্রকাশ্য দিবালোকে ব্যস্ত বাজারের ভিড়ের মধ্যেই।

বাজারে তখন মানুষের কেনাকাটার ভিড়। যে যার মতো তাঁদের প্রয়োজনীয় জিনিস ক্রয় করতে ব্যস্ত। তাই দম ফেলার ফুরসত নেই। কিন্তু এর মধ্যেই তাঁদের নজর পড়ল এমন এক দৃশ্যের দিকে, যা কল্পনাও করতে পারেননি কেউ। এমন দৃশ্য, যা ভাষায় ব্যক্ত করা অসম্ভব। এমনই এক ঘটনা ভাইরাল হয়েছে সোশ্যাল মিডিয়ায়।

পেশায় দিল্লির সরকারি হাসপাতালে কর্মরতা নীলুর সঙ্গে বিয়ে হয় আদতে গুজরাতের রাজকোটের বাসিন্দা হরিশ মেহতার। হরিশ বর্তমানে উত্তর-পশ্চিম দিলির বুদ্ধ বিহারের বাসিন্দা। হরিশের বয়স ৪০ বছর। এই হরিশই ব্যস্ত বাজারে মানুষের ভিড়ের মধ্যেই, সকলের চোখের সামনে নিজের স্ত্রীকে কুপিয়ে হত্যা করেছে।

জানা গিয়েছে, বিয়ের পর, থেকেই স্ত্রী নীলুকে চাকরি ছেড়ে দেওয়ার জন্য চাপ দিতে শুরু করে হরিশ। কিন্তু কোনোমতেই চাকরি ছাড়তে রাজি ছিলেন না নীলু। আর এই নিয়ে তাঁদের মধ্যে অশান্তি লেগেই থাকত। নীলু চাকরি ছাড়তে রাজি না হওয়ায়, হরিশের মধ্যে সন্দেহ দানা বাঁধে। সে সন্দেহ করতে শুরু করে নীলুকে। তাঁর ধারণা হয় যে, নীলু কারও সঙ্গে অবৈধ সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েছে। এই নিয়ে দু’জনের মধ্যে অশান্তি আরও তীব্র হয়।

অশান্তি বাড়তে থাকায়, একসময় বাপের বাড়ি চলে আসেন নীলু। তাতেই রাগে অন্ধ হরিশ স্ত্রীকে খুনের পরিকল্পনা করে। যেমন ভাবা তেমন কাজ। শনিবার অফিস থেকে বাড়ি ফেরার পথে স্ত্রীকে ডেকে পাঠায় সে। এরপর স্ত্রী এলে, প্রকাশ্য দিবালোকে তাঁকে কুপিয়ে খুন করে। পুলিশ জানিয়েছে যে, হরিশ ২৫ বার ছুরি দিয়ে আঘাত করে স্ত্রী নীলুকে। যার জেরে একেবারে ছিন্নভিন্ন হয়ে যায় শরীর। ইতিমধ্যেই এই ঘটনার সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ প্রকাশ্যে আসার সঙ্গে সঙ্গেই তা ভাইরাল হয়ে যায়।

দিল্লি পুলিশের প্রকাশ করা সেই হাড়হিম করা ফুটেজে দেখা যাচ্ছে, শনিবার বিকেলে, যখন দিনের আলো তখনও নেভেনি, সেই সময় ভরা বাজারের মধ্যে স্ত্রী নীলু রাস্তায় ফেলে একের পর এক কোপ বসাচ্ছে হরিশ। রক্তাক্ত শরীরে নীলু প্রথমে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করলেও, ধীরে ধীরে লুটিয়ে পড়েন রাস্তায়। কিন্তু তখনও কুপিয়ে চলেছে হরিশ। এমন সময় রাস্তা দিয়ে যারা যাচ্ছিলেন, তাঁরা অনেকেই হরিশকে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করতে এগিয়ে যান। কেউ যাতে এগিয়ে না আসেন তাঁর স্ত্রীকে বাঁচাতে, তাই তাঁদের উদ্দেশে হুমকি দেয় সে, ‘কেউ বাঁচাতে এলে দেখে নেব’ বলেও।

এরপর স্ত্রী নীলু মারা গিয়েছে বুঝতে পারলে, রক্তমাখা ছুরি নিয়েই পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে অভিযুক্ত। তবে শেষরক্ষা হয়নি। এলাকা থেকেই তাকে হাতেনাতে গ্রেফতার করে পুলিশ। এদিকে ওই হরিশের স্ত্রীকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে, চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।

পুলিশ জানিয়েছে, নীলুর শরীরের ২৫ জায়গায় ছুরির কোপের চিহ্ন মিলেছে। দেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠান হয়েছে। হরিশকে গ্রেফতার করে, তার বিরুদ্ধে খুনের মামলা রুজু করেছে পুলিশ। কী এমন ঘটেছিল জন্য এমন নৃশংস কাজ করল হরিশ, তা জানতে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।

আপনাদের মতামত জানাতে কমেন্ট করুন.