নিজেই নিজেকে মেরে নাক ফাটিয়েছেন মহিলা! মুখ খুললেন জোম্যাটোর অভিযুক্ত ডেলিভারি বয়

নিজেই নিজেকে মেরে নাক ফাটিয়েছেন মহিলা! মুখ খুললেন জোম্যাটোর অভিযুক্ত ডেলিভারি বয়
নিজেই নিজেকে মেরে নাক ফাটিয়েছেন মহিলা! মুখ খুললেন জোম্যাটোর অভিযুক্ত ডেলিভারি বয়

দু’দিন আগেই অনলাইন খাবার ডেলিভারি সংস্থা জোম্যাটোর (Zomato) ডেলিভারি বয়ের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ এনেছিলেন বেঙ্গালুরুর গ্রাহক হিতেসা চন্দ্রানী৷ নেটমাধ্যমে একটি ভিডিও পোস্ট করে তিনি জানিয়েছিলেন, খাবার দিতে এসে ঘুসি মেরে তাঁর নাক ভেঙে দিয়েছেন ডেলিভারি বয় কামরাজ। নিজের রক্তাক্ত নাকের ছবিও দেখান তিনি। যা রাতারাতি ভাইরাল হয়ে যায়। এবার মোড় ঘুরল কাহিনীর। উঠে এল নতুন তথ্য।

সেই প্রসঙ্গেই এবার মুখ খুললেন অভিযুক্ত কামরাজ। জানালেন, তার সঙ্গেই অভব্যতা করেছেন চন্দ্রানী৷ তাঁকে জুতো নিয়ে মারতেও আসেন ওই মহিলা। এরপর আত্মপ্রতিরোধে হাত সরাতে গেলে মহিলার নিজের হাতই নাকে লাগে। আঙুলে আংটি থাকায় সেই মুহূর্তেই কেটে যায় নাক। ফলে কামরাজ যে ঘুসি মেরে চন্দ্রানীর নাক ফাটিয়েছেন এই অভিযোগ একেবারেই মিথ্যে।

ঘটনাটি ঘটেছে বেঙ্গালুরুতে। সেদিন দুপুরে জোম্যাটো থেকে খাবার অর্ডার করেন চন্দ্রানী। দুপুর সাড়ে ৩টে নাগাদ খাবারটি আসার কথা থাকলেও বিকেলের সাড়ে ৪টের পর খাবার নিয়ে এসে পৌঁছায় কামরাজ। অনেকটা দেরি হওয়ায় সংস্থায় ফোন করে চন্দ্রানী জানান, হয় তাঁর খাবার বিনামূল্যে দেওয়া হোক, নয়তো খাবার ফিরিয়ে নিক সংস্থা। কিন্তু রাজি হয়নি সংস্থা। এরপর কামরাজের দাবী, তিনি পৌঁছনো মাত্রই চন্দ্রানী চিৎকার করতে শুরু করেন৷ এমনকি তাঁকে মারতেও শুরু করেন। সেই সময়ই চন্দ্রানীর নিজের আঙুলের আংটিতে কেটে যায় তাঁর নাক।

যদিও এই প্রসঙ্গে চন্দ্রানী জানিয়েছেন, ‘‘আমি যখন টাকা দিয়েছি, তখন ভাল পরিষেবা দেওয়া বাধ্যতামূলক। সেই কারণেই আমি টাকা ফেরতের কথা বলি। একবারের জন্যও আমি ডেলিভারি ম্যানটির গায়ে হাত তুলিনি। তবে উনি আমাকে মারতে এলে আত্মরক্ষার চেষ্টা করেছি।” এদিকে এই ‘মিথ্যে অভিযোগ’ অস্বীকার করে কমরাজ জানিয়েছেন, ‘‘আমি সময়মতোই খাবার পৌঁছে দিয়েছিলাম। কিন্তু ওই মহিলা খারাপ ব্যবহার করতে থাকেন। তারপর জুতো তুলে মারতে আসেন। আমি প্রতিরোধ করতে গেলে ওঁর হাতে পরা আংটিতেই আঘাত লাগে নাকে।’’

ইতিমধ্যেই ঘটনার বিস্তারিত তদন্ত শুরু করেছে সংস্থা। তারা এও জানিয়েছে, এখনও পর্যন্ত কামরাজ ৫ হাজারের কাছাকাছি খাবার পৌঁছে দিয়ে এসেছে। তবে তাঁর বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ কেউই করেননি। এ ক্ষেত্রে অবশ্য পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখার পরই কোনও সিদ্ধান্তে পৌঁছতে চাইছে সংস্থা। পুলিশ যদিও জেরা করেছে কমরাজকে। তবে থানায় তাঁর কোনও সম্মানহানি হয়নি বলেই জানিয়েছেন কামরাজ।

আপনাদের মতামত জানাতে কমেন্ট করুন.