বৃহস্পতিবার, ২৬ মে, ২০২২

কিমের দেশে চোখ রাঙাচ্ছে ওমিক্রন! ভাইরাসে প্রথম মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করল উত্তর কোরিয়া

চৈত্রী আদক

প্রকাশিত: মে ১৩, ২০২২, ১০:৪৪ এএম | আপডেট: মে ১৩, ২০২২, ১০:৪৪ এএম

কিমের দেশে চোখ রাঙাচ্ছে ওমিক্রন! ভাইরাসে প্রথম মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করল উত্তর কোরিয়া
কিমের দেশে চোখ রাঙাচ্ছে ওমিক্রন! ভাইরাসে প্রথম মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করল উত্তর কোরিয়া

বংনিউজ২৪×৭ ডিজিটাল ডেস্কঃ করোনা আতঙ্কে কাঁপছে কিম জং উনের দেশ। এরই মধ্যে ভাইরাসে প্রথম মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করল উত্তর কোরিয়া। দীর্ঘ আড়াই বছর পর বৃহস্পতিবার উত্তর কোরিয়ায় প্রথম করোনা আক্রান্তের হদিস মেলে। এর মধ্যে আবার মৃত্যুর খবর নতুন করে আতঙ্কের সৃষ্টি করেছে।

শুক্রবার উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, ওমিক্রণ ভ্যারিয়েন্টে আক্রান্ত হওয়ার পর ছয় জনের মৃত্যু হয়েছে। ওই ছয় জনের শরীরে আগে থেকেই জ্বরের উপসর্গ ছিল। পরে তাদের করোনা পরীক্ষা করালে রিপোর্ট পজিটিভ আসে। বৃহস্পতিবার আক্রান্তের খবর মিলতেই দেশজুড়ে আতঙ্ক মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছিল। এরপর ছয় জনের মৃত্যুর খবরে নতুন করে ভীতির সঞ্চার হয়েছে কোরিয়াবাসীদের মধ্যে।

এছাড়াও উত্তর কোরিয়ার সংবাদ মাধ্যম সূত্রে জানা গিয়েছে, গোটা দেশ জুড়ে প্রায় ১ লাখ ৮৭ হাজার মানুষ জ্বরে ভুগছেন। তারা আলাদা জায়গায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন। বিশেষজ্ঞদের মত, বহুদিন আগে থেকেই কোরিয়ায় করোনা ভাইরাসের অস্তিত্ব মিলেছে। কিন্তু কিম প্রশাসনের দাবি ছিল যে, বিশ্বজুড়ে কোভিড ছড়িয়ে পড়লেও কোরিয়াতে করোনা ভাইরাস প্রবেশ করতে পারেনি।

এই পরিস্থিতিতে বৃহস্পতিবার উত্তর কোরিয়ায় কোভিড আক্রান্তের হদিস মেলার খবর সরকারিভাবে ঘোষণা করা হয়। দেশের রাজধানী পিয়ংইয়ংয়ে ওমিক্রন ভ্যারিয়েন্টে আক্রান্ত হয়েছেন বহু মানুষ। যদিও সরকারিভাবে সংখ্যাটা কত তা ঘোষণা করা হয়নি। ‌তবে শুক্রবার দেশের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা জানিয়েছে সংক্রমণ কেবল রাজধানীর মধ্যেই সীমিত নেই, তা ছড়িয়ে পড়েছে দেশের একাধিক জায়গায়।

এছাড়াও উত্তর কোরিয়ার সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গিয়েছে, এপ্রিল মাসের শেষ থেকেই দেশজুড়ে হু হু করে বাড়ছিল জ্বরে আক্রান্ত সংখ্যা। আক্রান্তের সংখ্যা প্রায় ৩ লক্ষ্য ৫০ হাজার। তবে তাদের মধ্যে কত জনের শরীরে ভাইরাসের উপস্থিতি রয়েছে তা এখনও জানা যায়নি।

আজ থেকে প্রায় আড়াই বছর আগে গোটা বিশ্ব জুড়ে মানব শরীরে থাবা বসাতে শুরু করে করোনা ভাইরাস। মৃত্যু হয় কোটি কোটি মানুষের। সামাজিক দূরত্ব বিধি, মাস্ক পরিধান, ভ্যাকসিনেসনের মাধ্যমে ধীরে ধীরে স্বাভাবিক ছন্দে ফিরতে শুরু করেছে পৃথিবীর প্রতিটি দেশ। যদিও ২০২০ সালের জানুয়ারি মাস নাগাদ উত্তর কোরিয়ার সীমানা বন্ধ করে করোনা সংক্রমণ রুখতে সচেষ্ট হয় কিম সরকার।

গত বছর উত্তর কোরিয়াকে চীনের কোভিড টিকা ও অ্যাস্ট্রোজেনেকা ভ্যাকসিন প্রদানের প্রস্তাব দেওয়া হলে তা নাকচ করে দেয় প্রশাসন। বিশেষজ্ঞমহল মনে করছে, সংক্রমণ রুখতে গোটা বিশ্ব জুড়ে কোভিড টিকাকরণ উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালন করেছে। তবে উত্তর কোরিয়ায় এখনও পর্যন্ত টিকাকরণ শুরু না হওয়ায় সংক্রমণ উত্তরোত্তর বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।