রবিবার, ০২ অক্টোবর, ২০২২

কলকাতা পৌঁছালেও, CBI দফতরে নয়! অনুব্রত মণ্ডল গেলেন SSKM-এ

আত্রেয়ী সেন

প্রকাশিত: এপ্রিল ৬, ২০২২, ১২:২০ পিএম | আপডেট: এপ্রিল ৬, ২০২২, ১২:৩১ পিএম

কলকাতা পৌঁছালেও, CBI দফতরে নয়! অনুব্রত মণ্ডল গেলেন SSKM-এ
কলকাতা পৌঁছালেও, CBI দফতরে নয়! অনুব্রত মণ্ডল গেলেন SSKM-এ

বংনিউজ২৪x৭ ডিজিটাল ডেস্কঃ ফের এসএসকেএম হাসপাতালে অনুব্রত মণ্ডল। কলকাতাতে এলেও সিবিআই দফতরে নয়, গেলেন শহরের এই সরকারি হাসপাতালে। বুধবার সকাল ১১ টা নাগাদ চিনার পার্কের বাড়ি থেকে বের হন তিনি, তখন থেকেই শুরু হয় জোর জল্পনা। বীরভূমের তৃণমূলের জেলা সভাপতি তথা দাপুটে নেতা নিজাম প্যালেসে সিবিআই দফতরে হাজিরা দেবেন। 

কিন্তু আদতে তেমনটা হল না, অনুব্রত মণ্ডলের গাড়ি সোজা গেল এসএসকেএম হাসপাতালে। এদিকে, সকাল থেকেই প্রস্তুত ছিল সিবিআই-এর বিশেষ তদন্তকারী দল। যদিও শারীরিক সমস্যার দেখা দেওয়ায়, তাঁকে এসএসকেএম হাসপাতালের উডবার্ন ব্লকে নিয়ে যাওয়া হয়েছে বলেই খবর। 

উল্লেখ্য, গরু পাচার মামলায় এদিন অনুব্রত মণ্ডল সিবিআই-এর জেরার মুখোমুখি হবেন বলেই সকলের ধারণা ছিল। রাজ্য-রাজনীতিতে আজ এটাই ছিল চর্চার বিষয়। কিন্তু তেমনটা হল না। আচমকাই শারীরিক অসুস্থতা বোধ করায় বীরভূমের জেলা তৃণমূল সভাপতিকে তড়িঘড়ি নিয়ে যাওয়া হয় হাসপাতালে। জানা গিয়েছে, এসএসকেএম হাসপাতালের উডবার্ন ব্লকের ১২১/২ নম্বর কেবিনে নিয়ে যাওয়া হয়েছে তাঁকে। তাঁর বুকে ও পেটে সমস্যা রয়েছে বলে খবর। অনুব্রত মণ্ডলের শারীরিক পরীক্ষার জন্য গঠিত হয়েছে বিশেষ চিকিৎসক দলও। 

এদিকে, মঙ্গলবারই জেরা করা হয়েছে তাঁর ব্যক্তিগত দেহরক্ষীকে। গরু পাচারকাণ্ডে একাধিকবার  বীরভূমের তৃণমূলের দাপুটে নেতার নাম উঠে এসেছে। তাঁকে একাধিকবার জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডাকা হয়, যদিও প্রতিবারই তিনি কোনও না কোনও কারণে হাজিরা এড়িয়ে গিয়েছেন। রক্ষাকবচের জন্য দ্বারস্থ হয়েছেন আদালতের। যদিও সেই আবেদন গৃহীত হয়নি। বুধবার সকাল ১১ টার সময়ে তাঁকে নিজাম প্যালেসে হাজিরা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। জানা গিয়েছে, নিজাম প্যালেসে অনুব্রত মণ্ডলকে জেরার জন্য প্রস্তুত আধিকারিকরা। নিজাম প্যালেসে রয়েছেন সিবিআই-এর জয়েন্ট ডিরেক্টর পঙ্কজ শ্রীবাস্তব। ASP-র একটি পাঁচ সদস্য তদন্তকারী দল এই মুহূর্তে কলকাতায় রয়েছে। গোটা নিজাম প্যালেস চত্বরকে কেন্দ্রীয় বাহিনী দিয়ে মুড়ে ফেলা হয়েছে। কড়া নিরাপত্তার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে নিজাম প্যালেসে।

প্রসঙ্গত এর আগে গ্রেফতারির আশঙ্কায় রক্ষাকবচের আবেদন জানিয়ে কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন অনুব্রত। কিন্তু আইনি রক্ষাকবচ দেওয়া হয়নি তৃণমূলের এই নেতাকে। বীরভূমের কিংবা তাঁর বাড়ির কাছাকাছি কোথাও গিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করার জন্য অনুব্রত মণ্ডলের আইনজীবী আবেদন জানান, কিন্তু তাতেও আদালত জানায় যে, এই মুহূর্তে তাঁদের হস্তক্ষেপের কোনও প্রয়োজন নেই। আদালত আরও জানায় যে, অনুব্রত চাইলে, আগাম জামিনের আবেদন করতে পারেন। এছাড়াও ভিডিয়ো কনফারেন্সের মাধ্যমে গোয়েন্দাদের সামনে হাজিরার যে আর্জি জানিয়েছিলেন কেষ্ট, তাও খারিজ করে দেয় আদালত। কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতির বক্তব্য ছিল, ‘CBI মানেই ড্রাগন, এমন নয়। যে গিলে ফেলবে। বৃহত্তর স্বার্থের কথা ভাবতে হবে। এই অবস্থায় CBI-এর হাত কি বেঁধে দেওয়া যায়? তাহলে ওই গোয়েন্দা সংস্থা নিয়ে বিরূপ ধারণা তৈরি হয়। আগেও তাঁকে দুর্গাপুরে ডাকা হয়েছিল। তখন কলকাতায় আসতে বলা হয়েছিল। এ বার তো নিজাম প্যালেসে ডাকা হয়েছে। সমস্যা কোথায়?’