সোমবার, ২৭ মে, ২০২৪

একসময় ভারতীয় দলে খেলেছেন ফুটবল! সংসারে বোঝা টানতে এখন ‍‍`ফুড ডেলিভারি গার্ল‍‍` পৌলমী

মৌসুমী মোদক

প্রকাশিত: জানুয়ারি ১০, ২০২৩, ০৬:৫৪ পিএম | আপডেট: জানুয়ারি ১১, ২০২৩, ১২:৫৪ এএম

একসময় ভারতীয় দলে খেলেছেন ফুটবল! সংসারে বোঝা টানতে এখন ‍‍`ফুড ডেলিভারি গার্ল‍‍` পৌলমী
একসময় ভারতীয় দলে খেলেছেন ফুটবল! সংসারে বোঝা টানতে এখন ‍‍`ফুড ডেলিভারি গার্ল‍‍` পৌলমী

একসময় ভারতীয় ফুটবল দলের হয়ে আন্তর্জাতিক মঞ্চে প্রতিনিধিত্ব করেছেন। দেশে-বিদেশে খেলেছেন একাধিক প্রতিযোগিতায়। তবে ভাগ্যের নিষ্ঠুর পরিহাসে তিনিই আজ ‍‍`ফুড ডেলিভারি গার্ল‍‍`। যাঁর সারাদিনে আয় মাত্র ১৫০ থেকে ৩০০ টাকা। সংসারে বোঝা টানতে আজ তাঁকে বেছে নিতে হয়েছে এই পেশাই। তাঁর এই জীবন সংগ্রামই বলে দেয় ঠিক কতটা অসহায় পরিস্থিতি ভারতীয় মহিলা ফুটবলারদের৷

বেহালার পৌলমী অধিকারী (Poulami Adhikari), একজন পেশাদার ফুটবলার। ভারতের অনূর্ধ্ব-১৬ দলের হয়ে তিনি যেমন খেলেছেন, তেমনই খেলতে গিয়েছেন আমেরিকা, জার্মানি, স্কটল্যান্ডের মতো দেশেও। গৃহহীনদের বিশ্বকাপে খেলেছেন পৌলমী। তবে দেশে মহিলা ফুটবলারদের আয় বলতে খুবই সামান্য! ফুটবল খেলে যেটুকু উপার্জন হয় তা দিয়ে সংসারই চলে না। তাই খেলার মাঠ ছেড়ে বাড়ি-বাড়ি খাবার পৌঁছে দেওয়ার কাজ বেছে নিতে হয়েছে পৌলমীকে। তাঁর এই কাহিনী এখন ভাইরাল নেটমাধ্যমে।

সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি ভিডিও ভাইরাল হয়েছে। তাতে দেখা গিয়েছে, একটি ফুড ডেলিভারি সংস্থার জামা পরে এক যুবতী রাস্তা দিয়ে যাচ্ছেন। চোখে মোটা গ্লাসের চশমা। যিনি ভিডিয়ো করেছেন, তাঁর প্রশ্নের প্রেক্ষিতে যুবতী জানান, বেহালার শিবরামপুরের মেয়ে তিনি। নাম পৌলমী অধিকারী। ভারতের অনূর্ধ্ব-১৬ দলের হয়ে খেলেছেন। গৃহহীনদের বিশ্বকাপে খেলেছেন। আমেরিকা, জার্মানি, স্কটল্যান্ডে খেলতে গিয়েছেন। সেইশংসাপত্র গুছিয়েও রাখা আছে। সেইসব শংসাপত্রকে সাক্ষী রেখে সেই ফুটবলারকেই এখন বেঁচে থাকার জন্য ফুড ডেলিভারি সংস্থার হয়ে বাড়ি-বাড়ি খাবার পৌঁছে দিতে হচ্ছে।

তারইমধ্যে স্নাতক স্তরের পড়াশোনা চালাচ্ছেন বলে জানিয়েছেন পৌলমী। তিনি জানান, পড়াশোনা করেন। সংসারের বোঝার বেশিরভাগটাই টানেন। তাই তাঁর যে অবস্থা হয়েছে, সেরকম পরিস্থিতির মধ্যে যাতে কাউকে না পড়তে হয়, সেই আর্জি জানিয়েছেন পৌলমী। যিনি রাজ্য সরকারের তরফে কোনও সাহায্য পাননি বলে দাবি করেছেন।

ভাইরাল হওয়া সেই ভিডিওতে বাংলার মেয়ে পৌলমী বলেন, ‍‍`মাঝে মাঝে ভাবি, কেন এত কষ্ট করে ফুটবলার হতে গেলাম? মাঠ থেকে দূরে থাকতে ভাল লাগে না। তবুও পেট চালাতে হবে তাই এই পেশাকে বেছে নেওয়া।‍‍` এই লড়াইয়ে পাশে পাননি কাউকেই। চোট কাটিয়ে উঠলেও অবিচারের অভিযোগ তুলেছেন বাংলার মিডফিল্ডার।