শনিবার, ২৮ জানুয়ারি, ২০২৩

প্রথমে বিরিয়ানি খাইয়ে পরে টুকরো টুকরো স্ত্রীর দেহ! রেনুকা খুন কাণ্ডে প্রকাশ্যে ভয়ঙ্কর তথ্য

মৌসুমী

প্রকাশিত: জানুয়ারি ৬, ২০২৩, ০৮:২২ পিএম | আপডেট: জানুয়ারি ৬, ২০২৩, ০৮:২২ পিএম

প্রথমে বিরিয়ানি খাইয়ে পরে টুকরো টুকরো স্ত্রীর দেহ! রেনুকা খুন কাণ্ডে প্রকাশ্যে ভয়ঙ্কর তথ্য
প্রথমে বিরিয়ানি খাইয়ে পরে টুকরো টুকরো স্ত্রীর দেহ! রেনুকা খুন কাণ্ডে প্রকাশ্যে ভয়ঙ্কর তথ্য

রেনুকা খাতুন হত্যা মামলায় প্রকাশ্যে এলো চাঞ্চল্যকর তথ্য। অভিযুক্ত স্বামী আনসারুল কে জেরা করে ভয়ংকর তথ্য জানতে পারলেন তদন্তকারীরা। জানা গিয়েছে প্রথমে স্ত্রীকে বিরিয়ানি খাইয়ে তারপর তার দেহ দু টুকরো করে ক্যানেলের জলে ভাসিয়ে দেয় সে। পুলিশের দাবি, বহু আগে থেকেই খুন করার জায়গা বাছাই করে সেখানে ছুরি, বস্তা ও বদলানোর জন্য পোশাক রেখে এসেছিল অভিযুক্ত।

২৪ ঘণ্টারও বেশি তল্লাশির পর শুক্রবার তিস্তা ক্যানাল থেকে পাওয়া গিয়েছে নিহত রেণুকা খাতুনের বস্তাবন্দি ধড় ও কাটা মুন্ডু। সেই দেহাংশ উত্তরবঙ্গ মেডিক্যাল কলেজে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠিয়েছে পুলিশ। ওদিকে এদিনই পুলিশের সামনে চাঞ্চল্যকর দাবি করেছে অভিযুক্ত। সে জানায় প্রথমে দোকানে নিয়ে গিয়ে স্ত্রীকে বিরিয়ানি খাইয়েছিল, পরে তাঁকে ফাসিদেওয়ায় নিয়ে যায়। এরপর দেহ দুই টুকরো করে ক্যানেলের জলে ভাসিয়ে দেয় সে। শুক্রবার সকালে রেনুকা খাতুনের মাথা ও দেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। বস্তাবন্দি করে দেহ ফেলা হয় ক্যানেলে। কিন্তু, স্ত্রীকে খুন করার পর ১২ দিন ধরে একেবারে ঠান্ডা স্বভাবে সমস্ত কাজ করেছে এমডি আনসারুল। কাউকে বুঝতে পর্যন্ত দেয়নি যে কী কাণ্ড সে বাঁধিয়েছে। এমনকী, শ্বশুরবাড়িতে গিয়েও খাবার খেয়েছিল আনসারুল।

প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের অনুমান, গত কয়েকদিন ধরেই স্ত্রীকে খুনের পরিকল্পনা করছিল সে, আগে থেকে কিছু পোশাক রেখে দিয়েছিল। খুনের পর পোশাক বদলে নেয় সে। এরপরই পরিবারকে জানায় স্ত্রী নিখোঁজ হয়ে গিয়েছে। রেনুকার মোবাইলটিও ফেলে দেয় আনসারুল। শুক্রবার রেনুকার দেহের ময়নাতদন্ত হয়েছে উত্তরবঙ্গ মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে।

ছ বছর আগের আত্মীয়ের বাড়ি বেড়াতে গিয়ে পরিচয় হয়েছিল আনসারুল ও রেনুকার। সেখান থেকেই রেনুকার পরিবারকে বারবার চাপ দিয়ে তড়িঘড়ি বিয়ে করে আনসারুল। রেণুকার পরিবারের দাবি, শুরুতে দম্পতির মধ্যে সমস্যা থাকলেও পরে তা মিটে গিয়েছিল। তার পর থেকে সব ঠিকঠাকই ছিল।

দেহ উদ্ধারের পর রেণুকার জামাইবাবু মিন্নাতুল্লা বলেন, ‘‘বস্তায় একটি মৃতদেহ উদ্ধার হয়েছে। বুঝতে পারছি না, ওতে দেহের বাকি অংশ রয়েছে কি না। মৃতদেহ ফাঁসিদেওয়া থানায় নিয়ে যাওয়ার পরেই বোঝা যাবে। তার পর ময়নাতদন্ত। এই ঘটনায় ফাঁসির দাবি জানাচ্ছি।’’