বৃহস্পতিবার, ০৭ জুলাই, ২০২২

মেয়ের উপর ‘শারীরিক অত্যাচার’ অধ্যাপক বাবার! লাগাতার ‘ধর্ষণে’ অন্তঃসত্ত্বা কিশোরী

চৈত্রী আদক

প্রকাশিত: জুন ২২, ২০২২, ০৮:৫৪ পিএম | আপডেট: জুন ২২, ২০২২, ০৮:৫৪ পিএম

মেয়ের উপর ‘শারীরিক অত্যাচার’ অধ্যাপক বাবার! লাগাতার ‘ধর্ষণে’ অন্তঃসত্ত্বা কিশোরী
মেয়ের উপর ‘শারীরিক অত্যাচার’ অধ্যাপক বাবার! লাগাতার ‘ধর্ষণে’ অন্তঃসত্ত্বা কিশোরী / প্রতীকী ছবি

বংনিউজ২৪×৭ ডিজিটাল ডেস্কঃ দিনের পর দিন মেয়ের উপর বলপূর্বক ‘শারীরিক অত্যাচার’। এমনকি দীর্ঘদিন ধরে কিশোরীকে ভয় দেখিয়ে ধর্ষণের অভিযোগ উঠল সৎ বাবার বিরুদ্ধে। জানা গিয়েছে, অভিযুক্ত বাবা জলপাইগুড়ির একটি কলেজের অধ্যাপক। লাগাতার ধর্ষণের জেরে দেড় মাসের অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়েন কিশোরী। বিষয়টি প্রকাশ্যে আসতেই এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়েছে। গ্রেফতার করা হয়েছে অভিযুক্ত বাবাকে।

সূত্রের খবর, এই ঘৃণ্য ঘটনাটি ঘটেছে জলপাইগুড়ির রায়গঞ্জ থানা এলাকায়। জানা গিয়েছে, দীর্ঘদিন ধরেই সৎ মেয়েকে ভয় দেখিয়ে তাঁর সঙ্গে শারীরিক সম্পর্কে লিপ্ত হতেন জলপাইগুড়ি আনন্দচন্দ্র কলেজের হিন্দি বিভাগের অধ্যাপক। এতদিন ভয়ে কাউকে কিছু বলতে পারেননি কিশোরী। এমনকি বিষয়টি তাঁর মাও জানতেন না।

বিগত এক সপ্তাহ ধরে অসুস্থবোধ করতে শুরু করেন নির্যাতিতা কিশোরী। পরে বাধ্য হয়ে মাকে পুরো বিষয়টি খুলে বলেন। ‌জানান, তাঁর ঋতুচক্র বন্ধ হয়ে গিয়েছে। এর পাশাপাশি সৎ বাবার কুকীর্তির কথা ফাঁস করে দেন তিনি। এরপরে কিশোরীর শারীরিক পরীক্ষা করানোর জন্য তাঁকে নিয়ে যাওয়া হয় হাসপাতালে। পরীক্ষা করে জানা যায়, তিনি দেড় মাসের অন্তঃসত্ত্বা।

কিশোরীর অভিযোগ, বেশ কয়েকবার বলপূর্বক তাঁর সঙ্গে শারীরিক সম্পর্কে লিপ্ত হয়েছেন অধ্যাপক বাবা। পুরো বিষয়টি প্রকাশ্যে আসতেই অধ্যাপকের বিরুদ্ধে জলপাইগুড়ি মহিলা থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন নির্যাতিতার মা। তাঁর অভিযোগের ওপর ভিত্তি করেই অভিযুক্তকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তাঁর বিরুদ্ধে পকসো আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে। বুধবারই ধৃতকে জলপাইগুড়ি আদালতে পেশ করা হয়েছে।

গোটা ঘটনার প্রেক্ষিতে অধ্যাপকের বিরুদ্ধে কুরুচিকর মন্তব্যের অভিযোগ তুলেছেন জলপাইগুড়ি আনন্দচন্দ্র কলেজেরই এক শিক্ষিকা গোপা রায়। তাঁর দাবি, এর আগে কলেজের এক অধ্যাপিকাকে বিয়ে করার প্রস্তাব দিয়েছিলেন ওই অধ্যাপক। এমনকি তাঁকে নিয়ে ভ্যালেন্টাইন্স ডে-তে ঘুরতে যাওয়ার পরিকল্পনাও করেছিলেন তিনি। এছাড়াও কলেজের বেশ কয়েকজন ছাত্রীকে পোশাক কিনে দিয়েছিলেন। গোপা রায়ের অভিযোগ, পোশাকের মাপ নিয়েও ছাত্রীদের উদ্দেশ্যে কটু মন্তব্য করেছিলেন ওই অধ্যাপক।