বৃহস্পতিবার, ২৬ মে, ২০২২

একাধিকবার প্রেমের প্রস্তাব, প্রত্যাখ্যান করেন বৌদি! প্রতিহিংসার বশবর্তী হয়ে চরম পদক্ষেপ দেওরের

চৈত্রী আদক

প্রকাশিত: এপ্রিল ২৬, ২০২২, ১২:১২ পিএম | আপডেট: এপ্রিল ২৬, ২০২২, ১২:১২ পিএম

একাধিকবার প্রেমের প্রস্তাব, প্রত্যাখ্যান করেন বৌদি! প্রতিহিংসার বশবর্তী হয়ে চরম পদক্ষেপ দেওরের
একাধিকবার প্রেমের প্রস্তাব, প্রত্যাখ্যান করেন বৌদি! প্রতিহিংসার বশবর্তী হয়ে চরম পদক্ষেপ দেওরের / প্রতীকী ছবি

বংনিউজ২৪×৭ ডিজিটাল ডেস্কঃ পৃথিবীতে এমন অনেক মানুষ আছেন যারা তার পছন্দের বা ভালবাসার মানুষকে জীবনসঙ্গী হিসেবে পান না। এমনকি প্রেমের জন্য বহু আত্মত্যাগের নিদর্শনও রয়েছে। আবার অনেকক্ষেত্রে এমনটাও দেখা গিয়েছে যে প্রেমে প্রত্যাখ্যাত হয়ে নিজের জীবন শেষ করতেও পিছপা হয়নি। এই সবকিছুর মাঝে সবথেকে ভয়ঙ্কর হল প্রতিহিংসা। প্রেমে প্রত্যাখ্যান পেয়ে অনেকের মনেই জ্বলে ওঠে প্রতিহিংসার আগুন। তা থেকে ঘৃণ্যতম অপরাধ করে বসেন তারা। এবার এমনই এক ঘটনা ঘটেছে যা শুনলে রীতিমতো শিউরে উঠবেন।

ঘটনাটি উত্তরপ্রদেশে রাজধানী লখনউয়ের। বহুদিন ধরেই নিজের বৌদিকে পছন্দ করতেন দেওর। বলা বাহুল্য বৌদির প্রেমে পড়েছিলেন তিনি। অনেকবার নিজের মনের কথা জানিয়েওছিলেন। কিন্তু তাঁর প্রেমে ডাকে সাড়া দেননি বৌদি। এরপর প্রতিশোধ নিতে নিজের দাদাকেই খুন করে বসেন অভিযুক্ত। ঘটনার জেরে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে এলাকায়। ইতিমধ্যেই থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। অভিযোগের ভিত্তিতে অভিযুক্তকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

জানা গিয়েছে, লখনউয়ের চিনহাট এলাকার একটি ফ্ল্যাটে ভাড়া থাকত গোটা পরিবার। মৃত ব্যক্তির নাম মোহিত সাহু। তাঁকে খুনের অভিযোগ ওঠে ভাই ভূপেন্দ্র সাহুর বিরুদ্ধে। বহুদিন ধরেই মোহিত বাবুর স্ত্রী অর্থাৎ তাঁর নিজের বৌদিকে পছন্দ করতেন ভূপেন্দ্র। বারবার প্রেমের প্রস্তাব দিলেও তা প্রত্যাখ্যান করেন বৌদি। এমনকি কিছুদিনের মধ্যে ওই মহিলা তাঁর স্বামীকে সমস্ত ঘটনার কথা জানিয়ে দেন। এই নিয়ে দুই ভাইয়ের মধ্যে শুরু হয় বচসা। এরপর ভূপেন্দ্রকে বাড়ি ছেড়ে চলে যেতে বলেন মোহিত।

দাদার কথা মেনে নিয়েই সাময়িকভাবে বাড়ি ছাড়েন ভূপেন্দ্র। কিন্তু মনের মধ্যে দানা বাঁধতে থাকে ক্ষোভ ও প্রতিহিংসা। উত্তরপ্রদেশ পুলিশের অতিরিক্ত ডেপুটি কমিশনার (পূর্ব) কাসিম আবিদি সূত্রে জানা যায়, গত সপ্তাহে শনিবার ভূপেন্দ্র ফের বাড়িতে ফিরে আসেন। এরপরই মোহিতের সঙ্গে বাকবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন তিনি। রাগের বশবর্তী হয়ে ধারালো অস্ত্র দিয়ে দাদার গলা কেটে দেন ভূপেন্দ্র।

এছাড়াও পুলিশ জানিয়েছে, ভূপেন্দ্রকে জেরা করা হয়েছে। জেরার মুখে পড়ে ভূপেন্দ্র জানিয়েছেন, দাদাকে তিনি একেবারেই পছন্দ করতেন না। তার জন্যই দাদাকে হত্যা করেছেন ভূপেন্দ্র। এছাড়াও তাঁর অভিযোগ, বৌদিই দুই ভাইয়ের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি করেছে। যার ফলে মোহিত ও ভূপেন্দ্রর মধ্যে সম্পর্কে চিড় ধরে। ভূপেন্দ্রর বয়ানকে কেন্দ্র করে শুরু হয়েছে তদন্ত। খুনের পেছনে আর কোনও কারণ আছে কিনা তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।