শুক্রবার, ০৯ ডিসেম্বর, ২০২২

প্রেম হোক বা পুজো, গান মাত্রই বাঙালির মনে আজও ভেসে ওঠে কিশোর কুমারের নাম!

মৌসুমী মোদক

প্রকাশিত: অক্টোবর ১৩, ২০২২, ০৩:২০ পিএম | আপডেট: অক্টোবর ১৩, ২০২২, ০৩:২০ পিএম

প্রেম হোক বা পুজো, গান মাত্রই বাঙালির মনে আজও ভেসে ওঠে কিশোর কুমারের নাম!
প্রেম হোক বা পুজো, গান মাত্রই বাঙালির মনে আজও ভেসে ওঠে কিশোর কুমারের নাম!

ভারতীয় সঙ্গীত জগতে একপ্রকার কিংবদন্তিই বলা চলে তাঁকে। তিনি সুরের জাদুকর। টানা চার দশকেরও বেশি সময় ধরে শ্রোতাদের মনে বিরাজ করেছেন তিনি। সেই আবেদন আজও অটুট। প্রেম-বিরহই হোক বা পুজো, গান বলতে বাঙালির মনে আজও ভেসে তাঁরই নাম। তিনি আর কেউ নন,সঙ্গীতাকাশের অন্যতম উজ্জ্বল তারকা কিশোর কুমার।

প্রথাগত তালিম না থাকা সত্ত্বেও কন্ঠের আবেদনে শ্রোতাদের মননে নিজের চিরস্থায়ী স্থান করে নিয়েছিলেন কিশোর কুমার। কেরিয়ার শুরু মুম্বইয়ের বম্বে টকিজে কোরাস গায়ক হিসাবে। ১৯৪৮ সালে ‍‍`জিদ্দি‍‍` ছবিতে প্রথমবার প্লেব্যাকের সুযোগ। যদিও এরপরই আসে নানা বাধা-বিপত্তি। শাস্ত্রীয় সঙ্গীতের তালিম না থাকায় বিমল রায় পরিচালিত ‍‍`নকরি‍‍` ছবিতে গান গাওয়ার সুযোগ হারান কিশোর। তবে পরে সুরকার সলিল চৌধুরীর দৌলতে ফের গানের সুযোগ আসে তাঁর।

শুধু সঙ্গীতশিল্পী হিসেবে অন্যতম সাফল্যই নয়, ভারতীয় গায়কীতে বিভিন্ন বিদেশী স্টাইলের আমদানিও হয়েছিল কিশোর কুমারের হাত ধরেই। স্কেটিং, ইয়োডলিং-এর মতো টেকনিক নিয়ে এসেছিলেন তিনিই। নিজের অনন্য গায়কী তৈরি করতে তিনি শিখেছিলেন ইয়োডলিং। ভারতীয় সঙ্গীতে তিনিই প্রথম আনেন এই স্টাইল। কিশোর কুমার ছাড়া সেই সময়ের আর কোনও শিল্পীই ইয়োডলিং করতেন না। আর সেই গায়কীর মাধ্যমেই মঞ্চ কাঁপিয়ে বেড়াতেন তিনি।

কিশোর ছিলেন কে এল সায়গলের বড় ভক্ত৷ তাঁর গায়কীতেও ছিল সায়গল সাহেবকের প্রভাব। তবে সঙ্গীত পরিচালক শচীন দেব বর্মন কিশোরকে নিজস্ব স্টাইল তৈরি করার পরামর্শ দেন। তাঁর পরামর্শেই নিজের অনন্য গায়কী তৈরি করতে শিখে ফেলেন ইয়োডলিং। ভারতীয় সঙ্গীতে প্রথম আনেন এই স্টাইল। কিশোর কুমার ছাড়া সেই সময়ের আর কোনওশিল্পী ইয়োডলিং করতেন না।

দাদা অনুপ কুমারের সংগ্রহে থাকা কিছু  অস্ট্রিয়ান রেকর্ডস শুনে সেই স্টাইল অনুকরণ করতে শুরু করেন কিশোর কুমার। এরপর একের পর এক গানে হিন্দির সঙ্গে মেশাতে থাকেন বিদেশী স্টাইল। ‍‍`সিং নেই তবু নাম তার সিংহ‍‍`, ‍‍`ইয়ে শাম মস্তানি‍‍` সহ বিভিন্ন গানে তাঁর ইয়োডলিং ব্যবহার মনে রাখার মতো। সে সময় আশা ভোঁসলের সঙ্গে মিলে গানে স্কেটিং ও ইয়োডলিং-এর মাধ্যমে শ্রোতাদের মন ছুঁয়ে নিয়েছেন।

সেসময় ওইসব গানের কাণ্ডারী ছিলেন সঙ্গীত পরিচালক রাহুল দেব বর্মন। তাঁর কাছে স্বাধীনতা পেয়ে একের পর এক গানে বিদেশী টেকনিক নিয়ে আসতে লাগলেন কিশোর। সেই সব গান আজও জনপ্রিয়তার শিখরে। সব ধরণের গায়কীতেই কিশোর কুমার ছিলেন অনবদ্য। তাই তাঁর মৃত্যুর তিন দশক পরেও তিনি সমান সমাদৃত।