বৃহস্পতিবার, ২৬ মে, ২০২২

জন্মবার্ষিকীকে স্মরণে রবীন্দ্রনাথ! রইল বিশ্বকবির জীবনের অজানা কিছু বিষয়, যা না জানলেই নয়

মৌসুমী মোদক

প্রকাশিত: মে ৯, ২০২২, ১১:৩৬ এএম | আপডেট: মে ৯, ২০২২, ১১:৩৬ এএম

জন্মবার্ষিকীকে স্মরণে রবীন্দ্রনাথ! রইল বিশ্বকবির জীবনের অজানা কিছু বিষয়, যা না জানলেই নয়
জন্মবার্ষিকীকে স্মরণে রবীন্দ্রনাথ! রইল বিশ্বকবির জীবনের অজানা কিছু বিষয়, যা না জানলেই নয়

আজ ২৫ বৈশাখ! ব্যতিক্রমী এক ‘রবি’র কিরণে উজ্জ্বল এই পঁচিশে বৈশাখ। বাঙালির কাছে আজ এক অত্যন্ত স্মরণীয় দিন। কারণ এই দিনেই জন্ম নিয়েছিলেন বিশ্বকবি তথা বাঙালি সত্তা ও সংস্কৃতির মহানায়ক রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। ১২৬৮ বঙ্গাব্দের ২৫ বৈশাখ, ইংরাজির ১৮৬১ সালের ৭ মে কলকাতার জোড়াসাঁকোর ৬ নং দ্বারকানাথ ঠাকুর লেনের পারিবারিক বাসভবনে জন্ম নেন বাংলা সাহিত্যের এই প্রবাদপুরুষ। এরপর গত দেড় শতকের বেশি সময় ধরে বাঙালির মনে-প্রাণে, সুখে-দুঃখে, উৎসবে-আয়োজনে সবেতেই মিশে রবি ঠাকুর।

বয়স যখন মাত্র আট বছর, সেই তখন থেকেই কাব্যরচনা শুরু করেন রবীন্দ্রনাথ। কিন্তু বিদ্যালয়ের গতেবাঁধা শিক্ষাব্যবস্থায় তাঁর মন ছিল না। তসাধারণ স্কুল, বেঙ্গল অ্যাকাদেমি, ওরিয়েন্টাল সেমিনারি ও শেষে সেন্ট জেভিয়ার্স স্কুল, কোন স্কুলে না পড়েছেন তিনি! কিন্তু কিছুকাল স্কুলের পড়াশোনা করার পরই আর বিদ্যালয়ে যাননি তিনি। বরং বাড়িতেই চলেছিল তাঁর শিক্ষার চর্চা। রবীন্দ্রনাথের শিক্ষা আরম্ভ হয় দাদা হেমেন্দ্রনাথের হাতে। আর আট বছর বয়স থেকেই কাব্য রচনায় নিজের ছাপ ফেলতে শুরু করেন তিনি।

দশ বছর বয়স পর্যন্ত নিজের পিতার সঙ্গে বিশেষ সাক্ষাৎ বা পরিচিত হওয়ার সুযোগ মেলেনি রবীন্দ্রনাথের। এরপর ১৮৭৩ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি পিতা দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুরের সঙ্গে শান্তিনিকেতন যাওয়ার সুযোগ হয় তাঁর। সেই প্রথম কলকাতার বাইরে পা রাখেন ছোট্ট রবি৷ এমনিতে বাড়ির বাইরে পা রাখা তাঁর নিষিদ্ধ ছিল। তাই বাইরের জগৎ ও প্রকৃতির সান্নিধ্য পাওয়ার জন্য সদা উদগ্রীব হয়ে থাকতেন রবীন্দ্রনাথ। শান্তিনিকেতন যাত্রা যেন সেই ইচ্ছাই পূরণ করেছিল তাঁর।  

সাল যখন ১৮৭৮, সে সময় ব্যারিস্টার হওয়ার উদ্দেশ্যে পাড়ি দেন ইংল্যান্ডে রবি ঠাকুর। এই সময়ই ইংরেজি সাহিত্য ও সংস্কৃতি সম্পর্কে নানা জ্ঞান অর্জন করেন তিনি যা পরবর্তীতে তাঁর সাহিত্যচর্চায় বিশেষ প্রভাব ফেলেছিল। ১৮৮৩ সালে মৃণালিনী দেবীর সঙ্গে তাঁর বিবাহ হয় তাঁর। এরপর ১৮৯০ সালে শিলাইদহে পারিবারিক জমিদারির তত্ত্বাবধান শুরু করেন রবীন্দ্রনাথ। এই সময়েই তিনি শুরু করেন ছোট গল্পের চর্চা, রচনা করেন বহু গ্রন্থ।

১৮৯১ সাল থেকে ১৯০১ সালের মধ্যে ৫০টিরও বেশি ছোটগল্প লেখেন রবীন্দ্রনাথ। বাংলা সাহিত্যে প্রবর্তন করেন এক নতুন ধারা। তাঁর সোনার তরী (১৮৯৪), চিত্রা (১৮৯৬) ও কথা ও কাহিনী কাব্যগ্রন্থগুলি এই সময়েরই রচনা। এরপর একে একে সাহিত্য রচনায় তিনি হয়ে ওঠেন এক মহীরূহ! পান বিশ্বকবির সম্মান। ভারতের প্রথম নোবেলজয়ী তথা ইউরোপের বাইরের কোনও দেশের নাগরিক হিসাবে প্রথম নোবেল পুরষ্কারের সম্মানও পেয়েছিলেন রবীন্দ্রনাথ।

১৯০১ সালে শান্তিনিকেতনে ব্রহ্মচর্যাশ্রম প্রতিষ্ঠা করেন রবীন্দ্রনাথ। এরপর সেখানেই পাকাপাকিভাবে বসবাস শুরু করেন। ১৯০২ সালে মারা যান পত্নী মৃণালিনী দেবী। ১৯০৫ সালে তিনি বঙ্গভঙ্গ-বিরোধী আন্দোলনেও জড়িয়ে পড়েছিলেন রবীন্দ্রনাথ। ১৯১৫ সালে ব্রিটিশ সরকার ‍‍`নাইট‍‍` উপাধিতে ভূষিত করে রবীন্দ্রনাথকে। কিন্তু ১৯১৯ সালের জালিয়ানওয়ালাবাগ হত্যাকাণ্ডের পর সেই ঘটনার প্রতিবাদে নিজের নাইট উপাধি ত্যাগ করেন গুরুদেব।

নিজের দীর্ঘ জীবনে বহুবার বিদেশ ভ্রমণ করেছিলেন রবীন্দ্রনাথ। সমগ্র বিশ্বে বিশ্বভ্রাতৃত্বের বাণীও প্রচার করেন। ১৯২১ সালে গ্রামোন্নয়নের জন্য ‘শ্রীনিকেতন’ নামে একটি সংস্থা প্রতিষ্ঠা করেন কবিগুরু। ১৯২৩ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রতিষ্ঠিত হয় ‘বিশ্বভারতী’। শান্তিনিকেতনেই জীবনের শেষ কয়েকটা বছর কাটান রবীন্দ্রনাথ। এরপর ১৯৪১ সালে দীর্ঘ রোগভোগের পর কলকাতার পৈত্রিক বাসভবনে নিজের শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন বিশ্বকবি। পাড়ি দেন অমৃতলোকের পথে।