বৃহস্পতিবার, ০৭ জুলাই, ২০২২

আগামী রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে দ্রৌপদী বনাম যশবন্ত! রাইসিনা দখলের লড়াইয়ে কে কোথায় দাঁড়িয়ে?

আত্রেয়ী সেন

প্রকাশিত: জুন ২২, ২০২২, ০৮:০৭ পিএম | আপডেট: জুন ২২, ২০২২, ০৮:০৭ পিএম

আগামী রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে দ্রৌপদী বনাম যশবন্ত! রাইসিনা দখলের লড়াইয়ে কে কোথায় দাঁড়িয়ে?
আগামী রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে দ্রৌপদী বনাম যশবন্ত! রাইসিনা দখলের লড়াইয়ে কে কোথায় দাঁড়িয়ে?

বংনিউজ২৪x৭ ডিজিটাল ডেস্কঃ মঙ্গলবারই সব জল্পনার অবসান ঘটিয়ে বিজেপি এবং বিরোধী শিবির উভয়েই আসন্ন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে নিজেদের পছন্দের পদপ্রার্থীদের নাম ঘোষণা করেছেন। বিরোধী শিবির থেকে সর্বসম্মতভাবে প্রার্থী হয়েছেন যশবন্ত সিনহা। অপরদিকে বিজেপি প্রার্থী করেছে ঝাড়খণ্ডের প্রাক্তন রাজ্যপাল তথা আদিবাসী মুখ দ্রৌপদী মুর্মু। দৌপদী মুর্মু হলেন বিজেপির সমর্থিত জোটের রাষ্ট্রপতি পদের প্রার্থী।

এখন শুধু নির্বাচনী প্রচারে নামার পালা। তার আগে কে কোথায় দাঁড়িয়ে, কতোটা এগিয়ে এই যুদ্ধে, তা একবার দেখে নেওয়া যাক। নিজের দলের প্রার্থীকে সরাসরি নির্বাচনে জেতাতে বিজেপির যে সংখ্যক ভোটের প্রয়োজন, তা কেন্দ্রের বিজেপিশাসিত সরকারের এই মুহূর্তে নেই। এক্ষেত্রে তাঁদের ২ শতাংশ কম ভোট রয়েছে। সেক্ষেত্রে মোদী-শাহ পাখির চোখ ওড়িশার মুখ্যমন্ত্রী নবীন পট্টনায়কের BJD, অন্ধ্রপ্রদেশের জগনমোহন রেড্ডির দল এবং তেলেঙ্গানার টিআরএস-এর মতো দলগুলি। এদের নির্বাচনে পাশে পাওয়ার চেষ্টা করবে বিজেপি। তাছাড়া ওড়িশার ভূমিকন্যা দ্রৌপদী মুর্মুকে রাষ্ট্রপতি প্রার্থী করে নবীন পট্টনায়কের BJD-র ভোট পাওয়ার ব্যাপারে যথেষ্ট আত্মবিশ্বাসী বিজেপি।  তাহলে বাকি থাকে শুধু অন্ধ্রপ্রদেশের জগন মোহন রেড্ডির দল এবং তেলেঙ্গানার টিআরএস-এর মতো দলগুলি।
উল্লেখ্য, বিরোধী জোটের প্রার্থী বাছাইয়ের ক্ষেত্রে বৈঠকে যোগ দেননি জগনমোহন রেড্ডি এবং তেলেঙ্গানার মুখ্যমন্ত্রী তথা টিআরএস সুপ্রিমো কে চন্দ্রশেখর রাও। তা থেকেই ফায়সা লোটার চেষ্টায় রয়েছে বিজেপি আসন্ন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে। তাই এই তিন দলের ভোট বিজেপির দিকে গেলেই দ্রৌপদী মুর্মুর জয় নিশ্চিত। 

এবার আসা যাক কেন বিজেপি দ্রৌপদী মুর্মুকে বাছাই করল প্রার্থী হিসেবে সেই প্রসঙ্গে। উল্লেখ্য, চলতি বছরেই গুজরাট ও হিমাচল প্রদেশে রয়েছে বিধানসভা নির্বাচন। আবার সামনের বছর অর্থাৎ ২০২৩-এ রয়েছে রাজস্থান, ত্রিপুরা, মধ্যপ্রদেশ, ছত্তিশগড়-সহ বেশ কয়েকটি রাজ্যে নির্বাচন। তাই তার আগে দ্রৌপদী মুর্মু রাষ্ট্রপতি হলে, দ্দেশের প্রথম আদিবাসী রাষ্ট্রপতি যে হবে, তাই শুধু নয়, গুজরাট- সহ একাধিক রাজ্য যেখানে আদিবাসী ভোটার রয়েছে, আগামী সব রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচনে তাঁদের ভোটও বিজেপির ঝুলিতেই যাবে। ঠিক যেমন হয়েছিল বর্তমান রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দের সময় ২০১৭ সালে। রামনাথ কোবিন্দ দলিত সম্প্রদায়ের প্রতিনিধি। দরিদ্র কৃষক পরিবারের সন্তান। সেই আবেগকে হাতিয়ার করেই ২০১৭ সালে উত্তরপ্রদেশ বিধানসভা নির্বাচনে দলিত ভোটারদের ভোট টানতে পেরেছিল বিজেপি। 

অন্যদিকে, বিরোধী জোট সর্বসম্মত ভাবে প্রার্থী করেছেন প্রাক্তন বর্ষীয়ান বিজেপি নেতা তথা অটলবিহারী বাজপেয়ী মন্ত্রিসভার মন্ত্রী যশবন্ত সিনহাকে। উল্লেখ্য, যশবন্ত ২০১৮ সালে জনতা পার্টি ছাড়েন যশবন্ত সিনহা। ২০২১ সালে যোগ দেন তৃণমূল কংগ্রেসে। বাজপেয়ী অনুরাগীরা মোদী-শাহরা গুরুত্ব না দেওয়ার জন্যই বিজেপি ছাড়েন যশবন্ত। বিজেপিতে এমন অনেক সাংসদ-বিধায়ক রয়েছেন যারা দলে নানা কারণে গুরুত্ব পান না, কার্যত কোণঠাসা। তাঁদের ভোট যশবন্ত সিনহা। এদিকে, বিরোধী রাষ্ট্রপতি পদপ্রার্থীর ছেলে জয়ন্ত সিনহা বর্তমানে বিজেপি সাংসদ। গত মোদী মন্ত্রিসভায় তিনি মন্ত্রিও ছিলেন। কিন্তু এবারে তাকে মন্ত্রীত্ব দেওয়া হয়নি। তাঁর মোট এমন অনেকেই রয়েছেন। তাঁদের ক্ষোভ- অভিমানকেই কাজে লাগাতে চেষ্টার কোনও ত্রুটি রাখবেন না যশবন্ত।  

যদিও রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের বেশিরভাগের মতে, যশবন্তের তুলনায় রাষ্ট্রপতি হওয়ার দৌঁড়ে এগিয়ে দ্রৌপদীই। তার বড় কারণ মহারাষ্ট্রের বিদ্রোহ, হিমাচল, রাজস্থানে কংগ্রেসের দ্বন্দ্বের সরাসরি প্রভাব পড়তে পারে আসন্ন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে। এখন এতাও দেখার আপ বাঁ আম আদমি পার্টি কোনদিকে যায়। আগামী ১৮ জুলাই দেশের ১৬ তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচন। ২১ জুলাই রয়েছে ভোটগণনা। তবে শেষ পর্যন্ত কে হবেন ভারতের রাষ্ট্রপতি, তার জন্য গণনা শেষ হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। তারপরেই মিলবে উত্তর।