সোমবার, ০৮ আগস্ট, ২০২২

‘২১ জুলাই আমার কাছে বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ দিন’, কী ঘটেছিল সেদিন? কী লিখলেন নেত্রী?

আত্রেয়ী সেন

প্রকাশিত: জুলাই ২১, ২০২২, ১২:২১ পিএম | আপডেট: জুলাই ২১, ২০২২, ১২:২১ পিএম

‘২১ জুলাই আমার কাছে বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ দিন’, কী ঘটেছিল সেদিন? কী লিখলেন নেত্রী?
‘২১ জুলাই আমার কাছে বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ দিন’, কী ঘটেছিল সেদিন? কী লিখলেন নেত্রী?

বংনিউজ২৪x৭ ডিজিটাল ডেস্কঃ আজ একুশে জুলাই। তৃণমূল কংগ্রেসের শহিদ দিবস। দলের কাছে এই দিনটা এক ঐতিহাসিক দিন। আজ, ২১ জুলাইয়ের শহিদ সমাবেশ কলকাতায় ধর্মতলার বুকে। করোনা অতিমারীর কারণে গত ২ বছর করা যায়নি ২১ জুলাইয়ের সমাবেশ। কিন্তু এবার ঐতিহাসিক সেই সমাবেশ হচ্ছে পুরনো জায়গা ধর্মতলাতেই। ২০২১ এর বিধানসভা নির্বাচনে বিপুল জয় পেয়ে তৃতীয়বার বাংলার ক্ষমতা এসেছে তৃণমূল কংগ্রেস। এই জয়ের পর প্রথম শহিদ দিবসের সমাবেশ। তাই উত্তেজনা তুঙ্গে। এই দিনটি উপলক্ষে তৃণমূল কংগ্রেসের মুখপত্র ‘জাগো বাংলা’ পত্রিকায় কলম লিখেছেন তৃণমূল সুপ্রিমো। নেত্রীর লেখায় শহিদ দিবসের তাৎপর্য থেকে শুরু করে বাংলার বিরুদ্ধে চক্রান্ত- এমনই নানা বিষয় উঠে এসেছে। 

ঠিক কী লিখেছেন নেত্রী? আজ বৃহস্পতিবার প্রকাশিত তৃণমূলের মুখপত্রে তৃণমূল সুপ্রিমো লিখেছেন, ‘২১ জুলাই আমার কাছে এক বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ দিন। ১৯৯৩ সালের ২১ জুলাই আমাদের অহিংস, গণতান্ত্রিক পথে আন্দোলনকে স্তব্ধ করতে চক্রান্ত চালিয়েছিল বামফ্রন্ট সরকার এবং সিপিআইএম। আন্দোলনের উপর অত্যাচারের এই দিনটি বাংলা তথা দেশের চিরকালীন ইতিহাসে এক কলঙ্কিত দিন হিসেবে চিহ্নিত হয়ে থাকবে। সেদিন কোনও অপরাধ ছাড়াই আমার সহকর্মীদের উপর তাণ্ডব করেছিল পুলিশ আর সিপিআইএমের গুন্ডারা। প্রশাসনকে জানিয়ে, অনুমতি নিয়ে কর্মসূচি হয়েছিল। তারপরেও ওরা প্রাণঘাতী আক্রমণ করেছিল, তা গণতন্ত্রের লজ্জা। চিরকালীন ইতিহাসের কালো দিন। আমি মনে করি ১৯৯৩ সালের ২১ জুলাই–সহ যতগুলি গণতান্ত্রিক আন্দোলনে সিপিআইএম বর্বরোচিত আক্রমণ করেছে, কতজনকে শহিদ করেছে, বাংলার মানুষের তা মনে রাখা উচিত। এখন যারা বড় বড় কথা বলছে, তারাও মনে রাখুক, ২১ জুলাই রাজনৈতিক কর্মসূচিতে যারা গিয়েছিল, তারা অপরাধী ছিল না। তারা ছিল রাজনৈতিক কর্মী, গরিব সাধারণ মানুষ। এলোপাথাড়ি গুলি চালিয়ে ১৩ জনকে হত্যা করা হল। আমি ধন্যবাদ দিই আমাদের কর্মী থেকে সাধারণ মানুষকে, সেদিন আহতদের প্রাণ বাঁচাতে রক্ত দেবার জন্য তাঁরা লাইন দিয়েছিলেন।’

এর পাশাপাশি তাঁকে খুন পরিকল্পনা প্রসঙ্গে নেত্রী লিখেছিলেন, ‘ওইদিন আমি ঘটনাচক্রে বেঁচে গিয়েছিলাম। আমাকে খুনের চেষ্টা করেছিল ওরা। ওঁদের সংগঠিত ও পরিকল্পিত হামলার মধ্যে টার্গেট করেছিল আমাকে। ক্যাদানে গ্যাসের শেল পায়ের সামনে। শাড়িতে প্রায় আগুন লেগে যাচ্ছিল। পুলিশ আর সিপিআইএম ক্যাডাররা আমাকে ঘিরে ধরে আঘাত করেছে লাগাতার। একটা সময়ে গুলিও করতে যাচ্ছিল। আমার পিএস ও মাইতিদা, তিনিও পুলিশকর্মী, পালটা রিভলবার তুলে আমাকে বাঁচিয়েছিলেন। না হলে আমাকে গুলি করে মারত সেদিনই। আমি ভয়াবহ চোট পেলাম। রাজপথে রক্তের হোলি খেলল সিপিআইএম।’

সেদিনের আন্দোলন ঠিক কী নিয়ে ছিল? সেদিনের আন্দোলন প্রসঙ্গেও কিছু কথা নিজের লেখনীতে তুলে ধরেছেন নেত্রী। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় লিখেছেন, ‘১৯৯৩ সালের ২১ জুলাইয়ের আগে ছাপ্পা ভোট, ভুয়ো ভোট হতো। আমরা সেদিন বলেছিলাম– ‘নো আই কার্ড, নো ভোট’। সচিত্র পরিচয়পত্র চাই। দেশে প্রথম আমরাই আওয়াজ তুলেছিলাম। শেষে নির্বাচন কমিশন এটা মেনে নিয়েছিল। ২১ জুলাই আমাদের শহিদদের প্রাণের বিনিময়ে এল ভোটারদের সচিত্র পরিচয়পত্র। আর ২১ জুলাই হয়ে থাকল গণতান্ত্রিক আন্দোলনের ইতিহাসে নিরপরাধ রাজনৈতিক কর্মীদের উপর আক্রমণের এক কালো দিন।’

২১ জুলাই তাই তৃণমূল কংগ্রেসের কাছে শহিদ দিবস, শহিদ তর্পণের দিন। প্রতিবছর এই দিনটি স্মরণ করে থাকে তৃণমূল কংগ্রেস। এই দিনেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের রাজনৈতিক আন্দোলনের শিলমোহর পড়েছিল বলা যায়। পরিচিতি ঘটেছিল ১৯৯৩ সালের ২১ জুলাইয়েই। ওইদিন পুলিশের গুলিতে ১৩ জনের মৃত্যু হয়। আজও পুলিশের সেদিনের গুলি চালানো এবং পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। সাংসদ সৌগত রায়ের যেমন অভিযোগ, পুলিশ সেদিন বিনা প্ররোচনায় গুলি চালিয়েছিল। মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, এই দিনেই তৃণমূল কংগ্রেস শপথ নেবে বাংলার সুরক্ষা, বাংলার উন্নয়ন, বাংলার বিরুদ্ধে চক্রান্তের মোকাবিলার।